ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া অংশে আকস্মিক ঝড়ে ভেঙে পড়েছে প্রায় অর্ধশতাধিক গাছ। এতে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। এদিকে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও লাইনের ওপর গাছ ভেঙে পড়ায় বন্ধ রয়েছে উপজেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ।
মঙ্গলবার বিকাল পৌনে চারটার দিকে হঠাৎ তীব্র বাতাসের সাথে ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা তীব্র বজ্রপাতে স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
ঝড়ের কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় উপড়ে পড়েছে প্রায় অর্ধশতাধিক গাছ। শুধুমাত্র ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুই পাশেই প্রায় ৩০টির মতো গাছ ভেঙে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। এসব গাছের অধিকাংশই বিদ্যুৎ লাইনের ওপর ভেঙে পড়ায় বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে সমগ্র উপজেলা। মহাসড়কের দুই পাশে গাছ ভেঙে পড়ায় গজারিয়া অংশের ১৩ কিলোমিটার এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট।
স্থানীয় বাসিন্দা লতিফ ভূঁইয়া বলেন, “আমার জীবনে আমি এমন বজ্রপাত দেখিনি। একটানা এক ঘণ্টা বজ্রপাত হলো। বজ্রপাতের তীব্র শব্দে আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। কোথাও রাস্তা, কোথাও বৈদ্যুতিক খুঁটির ওপর গাছ ভেঙে পড়েছে। ফলে বিকাল পৌনে চারটা থেকে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছি আমরা।”
ঢাকাগামী বাসযাত্রী অভিজিৎ দাস অজয় বলেন, “যানজটের কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে একই স্থানে বসে আছি। ঝড়ের কারণে মহাসড়কের গজারিয়া অংশে অসংখ্য গাছ ভেঙে পড়েছে। জানি না কখন গন্তব্যে পৌঁছাতে পারব।”
কুমিল্লাগামী ট্রাকচালক রিফাত হাসান বলেন, “মেঘনা সেতু পার হওয়ার পর যানজটে পড়েছি। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক কার্যত বন্ধ। রাস্তায় অসংখ্য গাছ ভেঙে পড়ে আছে। জানি না কখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।”
গজারিয়া ভবেরচর হাইওয়ে থানার ইনচার্জ মো. শাহ কামাল আকন্দ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “আকস্মিক ঝড়ে মহাসড়কের গজারিয়া অংশে অসংখ্য গাছ ভেঙে পড়েছে। ঝড়ের মধ্যেই যান চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ শুরু করে হাইওয়ে পুলিশ সদস্যরা। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ঢাকাগামী লেনে যান চলাচল শুরু হয়েছে। চট্টগ্রামগামী লেন থেকে ভেঙে পড়া গাছ অপসারণের কাজ করছি আমরা। আশা করি কিছু সময়ের মধ্যে চট্টগ্রামগামী লেনেও যান চলাচল স্বাভাবিক হবে।”
বিষয়টি সম্পর্কে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ -এর গজারিয়া জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. আশরাফুল আলম বলেন, “বৈদ্যুতিক তারের ওপর অসংখ্য গাছ ভেঙে পড়েছে। আপাতত গজারিয়া উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। আমাদের কর্মীরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আমরা কাজ করছি।”
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

