ঈদের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তুলতে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার চান্দরা এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী এক মাছ ধরা উৎসব। চান্দরা যুব সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসবে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা দুই শতাধিক শৌখিন মাছ শিকারি অংশ নেন।
শনিবার সকাল থেকেই উৎসবস্থলে ভিড় জমান মাছ ধরার শৌখিন মানুষ ও দর্শনার্থীরা। নির্ধারিত সময়ে বাঁশির সংকেত বাজার সঙ্গে সঙ্গে অংশগ্রহণকারীরা একযোগে পুকুরে নেমে মাছ ধরা শুরু করেন। পলো, খেয়া জালসহ বিভিন্ন দেশি ঐতিহ্যবাহী উপকরণ ব্যবহার করে মাছ ধরার এই দৃশ্য দেখতে শত শত মানুষ উৎসবস্থলে উপস্থিত হন। উৎসবকে ঘিরে পুরো এলাকায় এক প্রাণচাঞ্চল্যপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা যেন এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
এ সময় উৎসবস্থলে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ জাহিদুর রহমান, মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি আবুল বাশার আব্বাসী, বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. কামরুল ইসলাম, পুটাইল ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মো. লাভলু মিয়াসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অতিথি ও স্থানীয় সুধীজনরা এ ধরনের আয়োজনকে গ্রামীণ সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধির একটি অত্যন্ত ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেন।
আয়োজকরা জানান, ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ভাগাভাগি করা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য তুলে ধরতেই এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
উৎসবে অংশগ্রহণকারী মজিবর রহমান বলেন, প্রতিযোগিতার চেয়ে আনন্দ ও পারস্পরিক সম্প্রীতিই ছিল এই উৎসবের মূল আকর্ষণ।
অন্যদিকে কাফাটিয়া গ্ৰামের শহিদুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের আয়োজন শুধু বিনোদনেরই নয়, বরং সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করতে এবং গ্রামীণ সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। গ্রামীণ ঐতিহ্য ও ঈদের উচ্ছ্বাসকে একসঙ্গে ধারণ করা এই মাছ ধরা উৎসব স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

