ইউটিউব দেখে বাড়ির ছাদে আঙুর চাষ করে সফলতার মুখ দেখছেন শরীয়তপুরের ডামুড্যার কলেজ ছাত্র মঈন। বাড়ির ছাদেই গড়ে তুলেছেন ব্যতিক্রমী এক আঙুরের বাগান, যেখানে থোকায় থোকায় ঝুলছে লাল, কালোসহ নানা বাহারি রঙের আঙুর। যা দেখতে যেমন দৃষ্টিনন্দন, স্বাদেও তেমনি সুস্বাদু।
শুক্রবার (১৫ মে) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ডামুড্যা উপজেলার ধানকাঠি ইউনিয়নের আকালবরিশ এলাকার বাসিন্দা জাকির খানের ছেলে মঈন ২০২২ সালে ইউটিউব দেখে শখের বসে বাড়ির পাশে অল্প পরিসরে আঙুর চাষ শুরু করেন। শুরুতে গাছে ফলন এলেও স্বাদে টক হওয়ায় নানা সমালোচনা ও কটূক্তির মুখে পড়তে হয় তাকে, তবে থেমে যাননি তিনি। বরং সেই কটূক্তিকেই শক্তিতে পরিণত করে নতুনভাবে শুরু করেন তার উদ্যোগ।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালে তিনি বাড়ির ছাদে প্রায় ১৫০০ স্কয়ার ফুট জায়গা-জুড়ে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলেন একটি ব্যতিক্রমী আঙুরের বাগান। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করেন বাইকুনু, ডিকসন, ইকোলো ও ভ্যালেসসহ বিরল প্রজাতির প্রায় ৪৫টি ভিন্ন জাতের আঙুরের চারা। পরে নিয়মিত পরিচর্যা, সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং কঠোর পরিশ্রমের ফলে ২০২৫ সালের শেষের দিকে সফলতার মুখ দেখেন তিনি।
বর্তমানে এই বাগান থেকেই আঙুর ও চারা বিক্রি করে প্রতি মাসে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা আয় করছেন তিনি। তার এই উদ্যোগ এলাকায় ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে এবং অনেকেই উদ্বুদ্ধ হয়ে তার থেকে চারা নিয়ে শুরু করছেন আঙ্গুরের চাষ।
মঈন এর প্রতিবেশী জয়নাল খাঁন জানান আমি এ প্রথম দেখলাম ছাদে আঙুর গাছে এত আঙুর, তিনি জানান মঈনের দেখা দেখি আমাগো গ্রামের অনেক যুবকরা এখন আঙুর চাষ শুরু করেছে, আঙুর চাষ করে মঈন এখন সফল এবং লাভবান।
ডামুড্যা উপজেলা উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. নেছার উদ্দিন জানান আমি যখন জানতে পারি উপজেলার আকালবরিশ এলাকায় শিক্ষার্থী মঈন তার ছাদ বাগানে আঙ্গুর চাষ করছে তখন আমি সরেজমিনে গিয়ে তাকে বিভিন্নভাবে পরামর্শ দেই, এবং তাকে উৎসাহ দেই, তিনি আরো জানান বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ করতে সব ধরনের সহায়তা করবেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

