আলফাডাঙ্গায় স.প্রা. বিদ্যালয়ে পরীক্ষার ফি আদায়ের অভিযোগ

উপজেলা প্রতিনিধি, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর)

আলফাডাঙ্গায় স.প্রা. বিদ্যালয়ে পরীক্ষার ফি আদায়ের অভিযোগ
ছবি: আমার দেশ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বেতন ও পরীক্ষার ফি সরকার সম্পূর্ণ ফ্রি করলেও ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রথম সাময়িক পরীক্ষার ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, উপজেলার টগরবন্ধ ইউনিয়নের ২১নং কৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৫৯নং ইকড়াইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অবৈধভাবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার ফি আদায় করেছেন।

বিজ্ঞাপন

সরজমিনে গিয়ে বিদ্যালয় দুটির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ৭ মে শুরু হওয়া প্রথম প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষা ২০২৬-এর ফি বাবদ প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ২০, ৩০, ৫০ ও ৬০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামাল আহমেদের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরীক্ষার খরচ তো স্লিপের টাকা থেকে হওয়ার কথা, কিন্তু সেই টাকা অনেক সময় পাওয়া যায় না। ফি না নিলে আমার বেতনের টাকা থেকে যাবে। ফোনে এ কথা জানার পর পরের দিন অনেক শিক্ষার্থীদের টাকা ফেরত দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

কৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্রী জান্নাতি জানায়, রহিমা ম্যাডাম আমাদের কাছ থেকে ৬০ টাকা করে পরীক্ষার ফি নিয়েছিল আবার ২য় পরীক্ষা শেষে আমাদের টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। ভাংতি টাকা না থাকায় অনেককেই আগামীকাল দেবে।

৫৯ নং ইকড়াইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র মহিবুল্লাহ ইসলাম জানায়, আমার কাছ থেকে ৪০ টাকা নেওয়া হয়েছে।

একই বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী নাম না বলার শর্তে জানায়, হেড স্যারের নির্দেশে ফুলমালা ম্যাডাম ছোট ক্লাসের ছাত্রদের কাছ থেকে ২০ টাকা আর চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০ টাকা করে ফি নিয়েছে। স্থানীয় এক অভিভাবক বলেন, আমরা নিয়ম জানি না, শিক্ষকরা টাকা চাইলে বাধ্য হয়েই দিতে হয়। তিনি আরো বলেন, সরকার বছরের পর বছর ফ্রি শিক্ষার কথা বলছে অথচ স্কুলে গেলেই বিভিন্ন অজুহাতে টাকা দিতে হয়।

এ বিষয়ে ৫৯ নং ইকড়াইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফ হোসেনের কাছে জানতে চাইলে প্রথমে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সরোয়ার হোসেন আমার দেশকে জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী পরীক্ষার জন্য কোনো শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ফি নেওয়ার সুযোগ নেই। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন