বাড়ির আঙিনায় দাদা-দাদির কবরের পাশে বৃষ্টির লাশ দাফন

জেলা প্রতিনিধি, মাদারীপুর

বাড়ির আঙিনায় দাদা-দাদির কবরের পাশে বৃষ্টির লাশ দাফন

কথা ছিল দুই মাস পর দেশে ফিরবেন নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। উচ্চশিক্ষা শেষে গ্রামের মানুষের সেবায় নিজ এলাকায় গড়ে তুলবেন একটি সেবাশ্রম। কিন্তু জীবনের সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি ফিরলেন নিথর দেহ হয়ে।

শনিবার দুপুর ১টা ২০ মিনিটে বৃষ্টির লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছায় মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চর গোবিন্দপুর গ্রামে তার বাড়িতে। এ সময় স্বজন ও এলাকাবাসীর কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে দেখা যায়, অ্যাম্বুলেন্স বাড়ির আঙিনায় পৌঁছানোর পর এক নজর বৃষ্টিকে শেষবারের মতো দেখতে ভিড় করেন শত শত মানুষ। কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। অনেকেই বলছিলেন, এভাবে নয়—উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে হাসিমুখে দেশে ফেরার কথা ছিল বৃষ্টির।

বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আসরের নামাজের পর চর গোবিন্দপুর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে বৃষ্টির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে দাদা-দাদির কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

জানা গেছে, ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষ নিহত বৃষ্টি ও জামিল আহমেদ লিমনকে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বৃষ্টির বাবা জহির উদ্দিন আকন জানান, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করার পর বৃষ্টি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) স্নাতকোত্তরে ভর্তি হন।

তবে স্নাতকোত্তর শেষ করার আগেই ফুল স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় পিএইচডি করার সুযোগ পান। ২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যান।

তিনি বলেন, “আমার মেয়ের স্বপ্ন ছিল গ্রামের গরিব মানুষের জন্য কাজ করা। এলাকায় এসে সবার সঙ্গে মিশত, মানুষের খোঁজখবর নিত। সে একটি সেবাশ্রম গড়ে তুলতে চেয়েছিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।”

তিনি আরও বলেন, “ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার দুই শিক্ষার্থী বৃষ্টি ও জামিল আহমেদ লিমন গত ১৭ এপ্রিল নিখোঁজ হন। পরে একে একে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। আমি দুই দেশের সরকারের কাছে আমার মেয়ের হত্যার বিচার চাই।”

এদিকে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাব বলেন, “ঘটনা জানার পর থেকেই জেলা প্রশাসন নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। পরিবারকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে। বিচারের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহায়তা অব্যাহত থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “এমন সম্ভাবনাময় একজন মেধাবীর মৃত্যু দেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।”

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...