চট্টগ্রাম জেলার জোরারগঞ্জ থানায় দায়ের হওয়া ৬ বছর বয়সী শিশু ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি মো. আনোয়ারকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। ভুক্তভোগী শিশুর অভিভাবক গত ২৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমিনের কাছে বিচার প্রার্থনা করতে যান। এসময় এমপি ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে তাকে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। এর চার দিনের মাথায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব জানায়, জোরারগঞ্জ থানাধীন রঘুনাথপুর এলাকায় ভাড়াবাসায় সপরিবারে বসবাস করেন মো. উজ্জ্বল হাওলাদার। তিনি পেশায় একটি হোটেলের মেসিয়ার। গত ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে নাইট ডিউটি শেষে সকালে বাড়ি ফিরে ঘুমিয়ে পড়েন। এসময় তার স্ত্রী জরিনা বেগম গৃহস্থালির কাজে ব্যস্ত ছিলেন। সকাল ১১টার দিকে তাদের ৬ বছর বয়সী কন্যা ফাতেমা আক্তার পাশের বাড়িতে মো. আনোয়ারের ছেলের সঙ্গে খেলতে যায়। দীর্ঘ সময় শিশুকে না পেয়ে মা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে আনোয়ারের ঘরের দরজা ধাক্কা দিয়ে খুললে শিশুটি কান্নারত অবস্থায় বেরিয়ে আসে এবং জানায়, আনোয়ার তার সঙ্গে খারাপ কাজ করেছে।
ভিকটিমের পরনের পায়জামা ভেজা ও গোপনাঙ্গ রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান তার মা। অভিযোগ রয়েছে, এসময় আনোয়ার হাতে রামদা নিয়ে ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় শিশুটিকে প্রথমে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে শিশুর পরিহিত কাপড় সংরক্ষণ করে থানায় মামলা দায়েরের পরামর্শ দেন।
এ ঘটনায় ভিকটিমের বাবা বাদি হয়ে জোরারগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় ১৩ ফেব্রুয়ারি মামলা দায়ের করেন।
র্যাব-৭ সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি মো. আনোয়ার জোরারগঞ্জ থানা এলাকায় অবস্থান করছে। এর ভিত্তিতে ২৭ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে জোরারগঞ্জ থানার খান সিটি সেন্টার, বারইয়ারহাট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আনোয়ারের পিতার নাম লাতু মিয়া প্রকাশ মফিজুর রহমান। তার বাড়ি পূর্ব দুর্গাপুর গ্রামে, থানা-জোরারগঞ্জ, জেলা-চট্টগ্রাম।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী নাজমুল হাসান জানান, আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদালতে চালান দেওয়া হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

