পাকুন্দিয়ার রসালো লিচু বাজারে, ১২ কোটি টাকার বিক্রির সম্ভাবনা

সাখাওয়াত হোসেন হৃদয়, পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ)

পাকুন্দিয়ার রসালো লিচু বাজারে, ১২ কোটি টাকার বিক্রির সম্ভাবনা

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় মঙ্গলবাড়িয়া, কুমারপুর, নারান্দী ও হোসেন্দী গ্রামে প্রায় দুইশ বছর ধরে আবাদ হচ্ছে লিচু। রসে টইটম্বুর, ঘ্রাণ আর নজরকাড়া রঙের জন্য প্রসিদ্ধ এ লিচু। অতুলনীয় এ লিচু দেশের গন্ডি পেরিয়ে যাচ্ছে বিদেশেও। এ লিচুর এখন চলছে ভরা মৌসুম। এবার কাঙ্খিত দাম পাওয়ার আশা করছেন চাষিরাও।

বিজ্ঞাপন

উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, চার গ্রামের শতশত চাষি লিচুর চাষের সঙ্গে জড়িত। প্রত্যেকটি গ্রামেই অনেক পুরাতন লিচুর গাছ রয়েছে। কম খরচে যেহেতু বেশি টাকা আসে তাই এখানকার অনেকেরই মূল পেশা লিচু চাষ। চারটি গ্রামে অন্তত ১২ হাজারের মতো লিচুর গাছ রয়েছে। এ বছর কমপক্ষে ১০ থেকে ১২ কোটি টাকার লিচু বেচার সম্ভাবনা রয়েছে।

উপজেলা সদর থেকে মাত্র দুই থেকে তিন কিলোমিটার পূর্বে পাশাপাশি ওই চারটি গ্রাম অবস্থিত। লিচুর আবাদ বদলে দিয়েছে এখানকার মানুষের জীবনযাত্রা। লিচু চাষে ভাগ্য ফিরেছে এসব গ্রামের শতশত কৃষকের। কম খরচে লাভ বেশি হওয়ায় লিচু চাষে আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের। এসব গ্রামের এখানে-সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ছোট-বড় অসংখ্য লিচুর গাছ। রাস্তার দুই পাশেও লিচুর বাগান। প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে গোলাপি রঙের টসটসে লিচু।

pakundia_lichi_pic

এক সপ্তাহ ধরে শুরু হয়েছে লিচু বেচাকেনা। চলবে আরো সপ্তাহ দুয়েক। দূর-দূরান্তের মানুষ আসছেন লিচু কিনতে। এলাকার আত্মীয়-স্বজন বেড়াতে আসছেন লিচুর মৌসুমে। এখান থেকে লিচু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন ক্রেতারা। প্রতি ১০০ লিচু বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৭০০টাকায়।

লিচু কিনতে গাজীপুর থেকে আসা সোহেল মিয়া বলেন, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামজিক যোগাযোগমাধ্যমে মঙ্গলবাড়িয়ার লিচু দেখে এখানে এসেছি। ছুটির দিন তাই পরিবারের সবাইকে নিয়ে ছুটে এসেছি।

সবুজ মিয়া নামে অপর একজন বলেন, প্রতি বছরই আমরা এখানে লিচু কিনতে আসি। এবার বউকে নিয়ে এসেছি। এখানকার লিচুর স্বাদই আলাদা। নিজ হাতে পেরে লিচু খেয়েছি। বাড়ির জন্যও কিছু নিয়ে যাচ্ছি।

pakundia_lichi news pic

লিচু চাষি মো. শামীম মিয়া বলেন, আমাদের এলাকার লিচু অনন্য বৈশিষ্ট্যের। এর স্বাদ, রস, ঘ্রাণ আর রং একে খ্যাতি এনে দিয়েছে। মধুর মতো মিষ্টি ও সুস্বাদু। একবার কেউ এই লিচু খেলে বারবার খেতে চাইবে। এবছর ভালো ফলন হয়েছে। বেশ লাভবান হবো।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নূরে-ই-আলম বলেন, উপজেলার চারটি গ্রামে বহু বছর ধরে লিচুর আবাদ হয়ে আসছে। ওই চারটি গ্রামে প্রায় ১২ হাজারের মতো লিচু গাছ রয়েছে। প্রত্যেকটি গ্রামেই অনেক পুরাতন লিচু গাছ রয়েছে। এর মধ্যে মঙ্গলবাড়িয়ার লিচু দেশজুড়ে পরিচিতি লাভ করেছে।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন