মানিকগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসনে এবার বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সহ মোট ২০ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নির্বাচন করেছেন। তবে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আসন তিনটি আসনে ২০ জন প্রার্থীর মধ্য ১৩ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুযায়ী, মোট বৈধ ভোটের ১২ দশমিক ৫শতাংশের কম ভোট পেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।
মানিকগঞ্জ-১ আসনে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ২ লাখ ৯৮ হাজার ৪৬৩টি। সে হিসেবে এ আসনে জামানত রক্ষায় একজন প্রার্থীকে কমপক্ষে ৩৭ হাজার ৩০৮ ভোট পেতে হয়েছে।
নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী এস এ জিন্নাহ কবীর ১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৭৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী তোজাম্মেল হক তোজা ৭৭ হাজার ৮১৮ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবু বকর সিদ্দিক ৭১ হাজার ৩১০ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। এ তিন প্রার্থী সাড়ে বারো শতাংশের বেশি ভোট পাওয়ায় তাদের জামানত বহাল রয়েছে।
অন্যদিকে এই আসনে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আব্দুল আলী বেপারী ৬ হাজার ৯৬৬ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মোহাম্মদ খোরশেদ আলম (হাতপাখা) ৩ হাজার ২৪৭ ভোট, গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইন (ট্রাক) ১ হাজার ৬৬ ভোট এবং জনতার দলের প্রার্থী মোহাম্মদ শাহজাহান খান (কলম) মাত্র ২৮৩ ভোট পেয়েছেন।
মানিকগঞ্জ-২ আসনে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ২ লাখ ৬৮ হাজার ২৩৫টি। সে হিসেবে এ আসনে জামানত টিকিয়ে রাখতে একজন প্রার্থীর প্রয়োজন ৩৩ হাজার ৫৩০ ভোট।
নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মইনুল ইসলাম খান শান্ত ১ লাখ ৭৫ হাজার ৭৭৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। জামায়াত জোট মনোনীত খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন (দেয়াল ঘড়ি প্রতীক) ৮১ হাজার ৫৩১ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। এ দুই প্রার্থী সাড়ে বারো শতাংশের বেশি ভোট পাওয়ায় তাদের জামানত বহাল রয়েছে।
অন্যদিকে এই আসনে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী এস এম আব্দুল মান্নান (লাঙল প্রতীক) ৭ হাজার ৮১ ভোট এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মোহাম্মদ আলী (হাতপাখা প্রতীক) ৩ হাজার ৮৪৭ ভোট পেয়েছেন।
মানিকগঞ্জ-৩ আসনে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ২ লাখ ৬৬ হাজার ৩২টি। সে হিসেবে এ আসনে জামানত রক্ষায় একজন প্রার্থীর প্রয়োজন ৩৩ হাজার ২৫৪ ভোট।
নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আফরোজা খানম রিতা ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। জামায়াত জোট মনোনীত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মোহাম্মদ সাঈদনূর (রিকশা প্রতীক) ৬৪ হাজার ২৪২ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। তবে সাড়ে বারো শতাংশ ভোটের শর্ত পূরণ করতে পেরেছেন কেবল বিজয়ী প্রার্থী আফরোজা খানম রিতা ও দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী মোহাম্মদ সাঈদনূর।
অন্যদিকে এই আসনে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান আতা (ফুটবল প্রতীক) ২০ হাজার ৫৫১ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম খান (মোটরসাইকেল) ৩ হাজার ৬১০ ভোট, বাংলাদেশ জাসদের প্রার্থী মোহাম্মদ শাহজাহান আলী (মোটরগাড়ি) ৩ হাজার ৫১০ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী শামসুদ্দিন (হাতপাখা) ২ হাজার ৭৮৭ ভোট, জাতীয় পার্টি (জাপা) প্রার্থী আবুল বাশার বাদশা (লাঙল) ১ হাজার ৯৬৬ ভোট, জাতীয় পার্টি (জেপি) প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেন খান মজলিস (বাইসাইকেল) ১ হাজার ৩৩৭ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মফিজুল ইসলাম খান কামাল (সূর্যমুখী ফুল) ৬৮৪ ভোট পেয়েছেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

