নারায়ণগঞ্জে খেলনা বন্দুক নিয়ে টিকটক, কারাগারে দুই তরুণ

নারায়ণগঞ্জে খেলনা বন্দুক নিয়ে টিকটক, কারাগারে দুই তরুণ
ছবি: সংগৃহীত।

নারায়ণগঞ্জে খেলনা বন্দুক হাতে দুই তরুণের ঘোরাঘুরির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় করা মামলায় ওই দুই তরুণকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। গতকাল শনিবার জেলা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আদালতের বিচারক ইয়াসির আরাফাত এ আদেশ দেন। এর আগে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর অভিযোগে সদর থানায় তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা করে পুলিশ। গত শুক্রবার রাতে নগরীর রেলগেট এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

গতকাল বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে জেলা পুলিশ। গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন—বন্দর বাজার এলাকার শামীম আহম্মেদের ছেলে লিমন তোহা এবং বন্দর ফায়ার সার্ভিসের গলির বাসিন্দা স্বপন মোল্লার ছেলে ইয়াছিন মোল্লা ।

পুলিশ জানায়, গত ২৮ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই তরুণের বন্দুক হাতে ঘোরাঘুরির একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি নারায়ণগঞ্জের সিটি পার্কের বিভিন্ন এলাকায় ধারণ করা হয়। বিষয়টি নজরে আসার পর ভিডিওটির নির্মাতা ও এতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের শনাক্তে কাজ শুরু করে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের আইসিটি শাখা।

আইসিটি শাখার এসআই আফজাল শাহীন ও তার দলের প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে ভিডিওটির নির্মাতা হিসেবে লিমন তোহা (২২) এবং বন্দুক হাতে থাকা অপর তরুণ হিসেবে ইয়াছিন মোল্লার (২৩) পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরবর্তী সময়ে সদর মডেল থানার পুলিশের একটি দল গত শুক্রবার রাতে নগরীর রেলগেট এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে।

নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী জানান, গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে শটগানসদৃশ প্লাস্টিক শটগান এবং এসএমজিসদৃশ প্লাস্টিক এসএমজি পাওয়া যায়। এসব খেলনা অস্ত্র হাতে নিয়ে তারা বিভিন্ন স্থানে মহড়া দিয়ে পথচারী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করছিলেন। পরে সেই দৃশ্য ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিতো তারা।

তিনি বলেন, অস্ত্রগুলো প্লাস্টিকের তৈরি খেলনা হলেও জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় সেগুলো আসল অস্ত্রের মতো প্রদর্শন করে মহড়া দেওয়া এবং এর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা কোনোভাবেই বিনোদন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিশেষ করে পথচারী ও শিশুদের ভয় দেখিয়ে সেই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া জননিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের বিষয়। সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এমএমআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন