ঢাকা বাইপাস সড়কের নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মদনপুর থেকে ভুলতা-গাউছিয়া পর্যন্ত সড়কে মাঝখানে বিদ্যুতের খুঁটি রেখেই নির্মাণকাজ চলছে। তাছাড়া সার্ভিস লেনে বিদ্যুতের খুঁটি অপসারণ না করেই পাকার কাজ সম্পূর্ণ করছেন। এই সড়কে উন্নয়নের এ চিত্র এখন ভয় আর শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়কের মাঝখানে থাকা বিদ্যুতের শতাধিক খুঁটি রেখেই চলছে সড়কের প্রশস্তকরণ ও চার লেনে উন্নীত করার কাজ। ঝুঁকিপূর্ণ এসব খুঁটি অপসারণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের। ফলে বাইপাস সড়কে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন চালক, যাত্রী, কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানা গেছে, এশিয়ান হাইওয়ে গাজীপুরের (ভোগড়া) থেকে নারায়ণগঞ্জের বন্দরের (মদনপুর) পর্যন্ত ৪৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের দুই পাশের সার্ভিস লেন ছাড়া চার লেনের প্রশস্তকরণ কাজ ২০১৯ সালের পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) শুরু করেন। ভূমি অধিগ্রহণ ও নির্মাণ ব্যয়সহ প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৭২৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। তবে নানা জটিলতায় গত সাত বছর ধরে ধীরগতিতে কাজ চললেও এই বছরের ডিসেম্বর মাসে নির্মাণকাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উন্নয়ন কাজ শুরু হলেও নিরাপত্তার বিষয়টি একেবারেই উপেক্ষিত। বন্দর উপজেলার বাসিন্দা সেলিম ও দ্বীন ইসলাম বলেন, ঢাকা বাইপাস সড়কের নির্মাণকাজ হওয়ায় আমরা অনেক খুশি। কিন্তু সড়কের মাঝখানে বিদ্যুতের খুঁটি রেখে কাজ চলছে এবং অনেক স্থানে পাকা করা হচ্ছে। এসব খুঁটি চালক ও যাত্রীদের ভয়াবহ বিপদের কারণ হবে। এখনই এগুলো না সরালে পরে আর গুরুত্ব দেবে না কর্তৃপক্ষ। প্রাইভেটকার চালক মিজানুর রহমান বলেন, দেশের অনেক হাইওয়ে সড়কে গাড়ি চালিয়েছি, কিন্তু এই সড়কের মাঝখানে বিদ্যুতের খুঁটি রেখে কাজ চলছে, এমন দৃশ্য আগে দেখিনি। এই সড়ক দিয়ে পণ্যবাহী বিভিন্ন ভারী যানবাহন চলে, গাড়ির গতিও বেশি থাকে। ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা অনেক বেশি।
ঢাকা বাইপাস সড়কের উন্নয়ন প্রকল্পের রি-সেটেলমেন্ট অফিসার ফারদিন ইমাম বলেন, বিদ্যুতের খুঁটি অপসারণের জন্য পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। মৌখিকভাবেও একাধিকবার বলা হয়েছে। তাদের গাফিলতির কারণে নির্মাণকাজও ধীরগতি হচ্ছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, সড়কের নির্মাণকাজের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আমাদের খুঁটি বসানোর জায়গায় মাটি সময়মতো দিতে না পারায় খুঁটিগুলো অপসারণ করা যাচ্ছে না। প্রতিদিন একটু একটু করে কাজ করা যায় না। কারণ অন্য গ্রাহকদের কথাও চিন্তা করতে হয় । আমরা নির্মাণকাজের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার বলে যাচ্ছি সড়কের দুই পাশে মাটি ভরাট করে দিতে। তাহলে একসঙ্গে খুঁটিগুলো দ্রুত অপসারণ করতে পারি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

