আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

রাজবাড়িতে আবাদি পেঁয়াজ ক্ষেত নষ্ট করেছে দুর্বৃত্তরা, দিশাহারা কৃষক

আবু মুসা বিশ্বাস, রাজবাড়ী

রাজবাড়িতে আবাদি পেঁয়াজ ক্ষেত নষ্ট করেছে দুর্বৃত্তরা, দিশাহারা কৃষক

রাজবাড়িতে কৃষকের আবাদি পেঁয়াজ নষ্ট করে দিচ্ছে দুর্বৃত্তরা। এতে কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ফসল হারিয়ে দিশাহারা কৃষক।

জানা গেছে, রাজবাড়ীর কৃষক আলাউদ্দিনের দুই বিঘা জমির পেঁয়াজের কদম কেটে ও মাড়িয়ে নষ্ট করেছে দুর্বৃত্তরা। গত সোমবার রাতের কোনো এক সময় সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের মরজোৎকোল গ্রামের আলাউদ্দিন সেখের পেঁয়াজের ক্ষেতে এ ঘটনা ঘটায় দুর্বৃত্তরা। একই দিন বালিয়াকান্দি উপজেলায় কয়েকটি মৌজায় পেঁয়াজের কদমসহ গাছ উপড়ে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। অপরদিকে গত বুধবার কালুখালী উপজেলার মৃগী ইউনিয়নের বিশাল এলাকাজুড়ে দুর্বৃত্তরা ঘাসমারা বিষ স্প্রে করে নষ্ট করেছে ক্ষেতের উঠতি ২৫ একর জমির পেঁয়াজ। মৃগী ইউনিয়নে ২৫ একর জমিতে হালির পেঁয়াজ রোপণ করে ১০০ কৃষক। ক্ষতিগ্রস্ত চাষি আব্দুল হাকিম জানান, তিনি ৫ একর জমিতে হালি পেঁয়াজ চাষ করেছেন। আর ১৫-২০ দিন পর পেঁয়াজ উত্তোলনের উপযোগী হতো। কিন্তু দুর্বৃত্তরা বিষ স্প্রে করায় এখন তার মাথায় হাত। অপর কৃষক আনিসুর রহমান বলেন, ৬০ শতাংশ জমিতে ধারদেনা করে পেঁয়াজ রোপণ করেছি। কিন্তু দুর্বৃত্তরা এভাবে ক্ষতি করবে ভেবে কষ্টপাচ্ছি।

বিজ্ঞাপন

রাজবাড়ি সদরের আলাউদ্দিন সেখের গ্রামের মাঠে গিয়ে দেখা যায়, কদম আসা পেঁয়াজের কোথাও ক্ষেতের এক পাশে আবার কোথাও ক্ষেতের মাঝখানে কদম আসা পেঁয়াজ কেটে ও মাড়িয়ে একাকার করেছে। আলাউদ্দিন সেখ জানান, তিনি পেঁয়াজের বীজ উৎপাদনের জন্য দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে উন্নত জাতের বীজ সংগ্রহ করেন। তিনি ফিরোজ মিয়ার কাছ থেকে লিজ নিয়ে সাড়ে পাঁচ একর জমিতে কদম পেঁয়াজের চাষ করেছেন। প্রতিবিঘা বার্ষিক ১৫ হাজার টাকা হিসেবে জমি লিজ নিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রতিদিনের মতো সকালে পেঁয়াজের ক্ষেতে এসে দেখেন দুর্বৃত্তরা পিঁয়াজ গাছের মাথা কেটে ও পায়ে মাড়িয়ে নষ্ট করেছে। মরজোৎকোল মৌজার বিভিন্ন ক্ষেতে তিনি পেঁয়াজের দানার চাষ করেছেন। তিনি আরো জানান, এখন কদমের পরাগায়নের সময়। মাঠে মৌমাছি না থাকায় কৃত্রিমভাবে হাত দিয়ে পরাগায়ন ঘটানো হয়। এ জন্য অতিরিক্ত লেবার নিতে হচ্ছে। আমেরিকান বীজ থেকে উৎপাদিত উন্নত জাতের সিডওয়াল্ড কোম্পানি কুষ্টিয়া থেকে ৪ হাজার টাকা মণ দরে ‘বেগম’ জাতের পেঁয়াজ কিনে লাগিয়েছেন। নষ্ট হওয়া এ ক্ষেতে ৫ লাখ টাকার বীজ উৎপাদন হতো। তাছাড়া এ সাড়ে পাঁচ একর জমির পেঁয়াজের দানা বিক্রি করে কোটি টাকার রোজগারের স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

বালিয়াকান্দি পেঁয়াজ নষ্টের বিষয়ে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক। আবার রাজবাড়ি সদরের কৃষি অফিসার সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে কৃষকের দুর্দশার সঙ্গে একাত্ম হয়ে প্রতিকারের উদ্যোগ নেবেন বলে জানান। এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের সহকারী পরিচালক ড. সহিদুল ইসলাম বলেন, দেশের মধ্যে

রাজবাড়ি জেলা হচ্ছে- পেঁয়াজ চাষে তৃতীয় অবস্থানে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় পেঁয়াজ নষ্ট করার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তাতে বোধ হয় জেলার পেঁয়াজ চাষিদের নিরুৎসাহিত করার অপকৌশল। বিষয়টি ফৌজদারি অপরাধ বলে তিনি মনে করেন। বিষয়টি জেলা সমন্বয় সভায় গুরুত্বসহকারে উত্থাপন করা হবে।

বালিয়াকান্দির পেঁয়াজ চাষিরা রাজবাড়ী-২ আসনের এমপি হারুন অর রশিদকে জানানোর পর তিনি সরেজমিনে সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করে থানার অফিসারদের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলেছেন। প্রয়োজনে সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন