পাকুন্দিয়া-পুলেরঘাট সড়কের বেহাল দশা, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

পাকুন্দিয়া-পুলেরঘাট সড়কের বেহাল দশা, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ
ছবি: আমার দেশ

‘যে থেনহানি থেনহা, অক্করে কোমর-চোমড় অচল বানায়ালা। কী করতাম ক, এই রাস্তাডা যদি কইরা দিত, আমরা বেহিরো উপকার অইত।’ কথাগুলো বলছিলেন ষাটোর্ধ্ব নারী হামিদা বেগম। যিনি অটোরিকশা দিয়ে আজলদী থেকে পাকুন্দিয়া আসছিলেন।

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার পাকুন্দিয়া-পুলেরঘাট সড়কের বেহাল দশায় দুর্ভোগের কথা বলছিলেন এই নারী যাত্রী। শুধু তিনিই নন, এই সড়ক দিয়ে যারা চলাফেরা করেন, তাদের সবার কথাও একই রকম। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক পুরোটা খানাখন্দে ভরা।

বিজ্ঞাপন

সংস্কারের অভাবে রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। চালক, যাত্রী, স্থানীয় বাসিন্দা সবার দাবি দ্রুত রাস্তাটি মেরামত করে চলাচলের উপযোগী করা হোক।

পাকুন্দিয়া-পুলেরঘাট সড়কে গিয়ে দেখা গেছে, পাকুন্দিয়া পৌর সদরের হাইস্কুল মোড় থেকে পুলেরঘাট বাজার পর্যন্ত সাত কিলোমিটার রাস্তাটির বেশির ভাগই খানাখন্দে ভরা। সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তার ছোট-বড় গর্তে পানি জমে থাকে। তাছাড়া রাস্তাটির এসব গর্ত এবং খানাখন্দের কারণে যানবাহন ঠিকমতো চলাচল করতে পারছে না।

চালক, পথচারী, যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, এই রাস্তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই রাস্তা ভৈরব-ময়মনসিংহ মহাসড়কে গিয়ে মিলিত হয়েছে। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে বিভিন্ন পণ্যবাহী ট্রাক, পিকআপ পাকুন্দিয়ায় আসা-যাওয়া করে। তাছাড়া পাকুন্দিয়া, নারান্দী, ছোট আজলদী, আগরপাট্টা, সনমানিয়া, পুলেরঘাট, ঘাগড়া এলাকার শত শত মানুষ এই রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করে থাকে। স্কুল, কলেজ, মাদরাসার শত শত শিক্ষার্থীর যাতায়াতের পথ এই সড়ক।

পুরো সড়কজুড়ে খানাখন্দ। এ কারণে যাত্রীবাহী যানবাহন কম চলাচল করছে। সন্ধ্যা হলেই এই সড়কে যাত্রীবাহী অটোরিকশা চলাচল অনেকটাই কম থাকে। এজন্য যাত্রীদের রাতের বেলায় সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

রাস্তাটির এমন দুর্দশার কারণে অসুস্থ, বয়স্ক ও শিশুদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। জরুরি রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া তো আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।

মতিউর রহমান নামে এক অটোরিকশাচালক বলেন, ‘একবার এই সড়ক দিয়ে গেলে, আরেকবার আওন যায় না। হাত ব্যথা হয়ে পড়ে। গাড়ি উল্টে গেলে উঠানো যায় না। একজন রোগী লইয়া গেলে অর্ধেক রাস্তা আইলে রোগী এখানেই কাইল হয়ে যায়। হাসপাতালে আর নিতে পারি না। সরকার যদি রাস্তাটি ঠিক করে দিত, তাহলে গাড়ি চালাইয়া সংসার চালাইতাম পারতাম আরকি।’

বাবুল মিয়া নামে অপর এক অটোরিকশাচালক বলেন, ‘রাস্তার অবস্থা খুবই ভয়াবহ। রাস্তায় একেবারে চলন যায় না। প্রতিদিন অনেক গাড়ি নষ্ট হয়।’

ছোট আজলদী গ্রামের অটোরিকশাচালক মিলন মিয়া বলেন, ‘আমার বাড়ি এখানে, কিন্তু এই রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালাই না। মাঝেমধ্যে আসি। এই রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালালে দুই দিন পরপর গাড়ির বেয়ারিং নষ্ট হয়ে যায়। একটা বেয়ারিং ৪০০ টাকা। সারা দিন ভাড়া মারি ৫০০-৬০০ টাকা। এই টাকা দিয়ে সংসার চালাব নাকি গাড়ি ঠিক করব?’

ভাঙাচোরা এই রাস্তা দ্রুত মেরামত করার দাবি জানান এই চালক।

জামতলা চৌরাস্তা বাজারের ব্যবসায়ী বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘আমি প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যাই। রাস্তাটি খুবই খারাপ। প্রায় সময় অটোরিকশা উল্টে গিয়ে যাত্রীরা আহত হন। রাস্তাটি সংস্কার করা খুবই দরকার।’

ফরিদ মিয়া নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘রাস্তাটি এতটাই খারাপ যে, প্রায় সময়ই গাড়ি উল্টে যায়। গর্ভবতী নারী ও অসুস্থ রোগীরা আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন এই রাস্তা দিয়ে গেলে। দুই দিন পরপর গাড়ি উল্টে গিয়ে মানুষ হতাহত হচ্ছেন। আমরা দ্রুত এই রাস্তা সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি ।’

এ ব্যপারে উপসহকারী প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘পাকুন্দিয়া-পুলেরঘাট রাস্তার প্রাক্কলন কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। আমরা আশা করছি দ্রুতই টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হবে। টেন্ডার হলেই আমরা কাজ শুরু করতে পারব।’

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন