স্বপ্নলোক হাউজিং কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ

আবু নাসের খান লিমন, লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ)

স্বপ্নলোক হাউজিং কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার মির্জাকান্দা এলাকায় স্বপ্নলোক হাউজিং কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনেছেন ভুক্তভোগী বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। এ বিষয়ে তারা একাত্ম হয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।

মঙ্গলবার বিকালে সিরাজদিখান উপজেলার কেয়াইন ইউনিয়ন মির্জাকান্দা এলাকায় স্বপ্নলোক হাউজিংয়ের সাইট অফিসের সামনে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে ভুক্তভোগী ও এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

বিজ্ঞাপন

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, স্বপ্নলোক হাউজিং কোম্পানি আকর্ষণীয় আবাসন প্রকল্পের প্রলোভন দেখিয়ে বহু মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করেছে। তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও প্রতিশ্রুত প্লট হস্তান্তর কিংবা প্রকল্পের দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় তারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

বক্তারা বলেন, তাদের কষ্টার্জিত অর্থ বিনিয়োগ করেও কাঙ্ক্ষিত সুবিধা না পাওয়ায় তারা আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ অবস্থায় দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

ভুক্তভোগী শিল্পী আক্তার বলেন, ‘প্রায় চার বছর ধরে এই স্বপ্নলোক হাউজিংয়ে প্লট ক্রয় করার জন্য টাকা দিয়ে রেখেছি। আমাদের প্লট বুঝিয়ে দেবে বলে কালক্ষেপণ করা হচ্ছে। এখন জানতে পারি তাদের নিজস্ব কোনো জমি নেই, তারা আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। এখন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো ফল হচ্ছে না।’

মো. বনি নামের আরো একজন ভুক্তভোগী বলেন, ‘আমরা এই স্বপ্নলোক হাউজিং থেকে পাঁচটা প্লট বুকিং দিয়েছি। এ পর্যন্ত প্রায় ১৫ লাখ টাকা দিয়েছি। এই হাউজিং কোম্পানির কাছে বারবার তাগিদ দেওয়ার পরও তারা আমাদের প্লট বুঝিয়ে না দিয়ে সাইট অফিস বন্ধ করে দিয়েছে। ঢাকার জুরাইনে তাদের মেইন অফিসে গিয়েও তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে পারছি না। ফোনে যোগাযোগ করলেও টাকা ফেরত ও প্লট বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বললেও তারা বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে থাকে। তারা অন্যের জমি দেখিয়ে আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করে টাকাগুলো নিয়েছে।’

ভুক্তভোগী মঞ্জুরা বেগম বলেন, ‘আমার মেয়ের জামাই মোয়াজ্জেম (মাকসুদার স্বামী) ৩টা প্লট কেনার জন্য বুকিং দেয় চার বছর আগে। এ পর্যন্ত আমরা প্রায় ১১ লাখ টাকা দিয়েছি। তারা এখনও প্লট বা জায়গা বুঝিয়ে দিচ্ছে না। এখন শুনেছি তাদের নিজস্ব কোনো জায়গা নেই। তারা আমাদের সাথে প্রতারণা করে টাকা নিয়ে পালিয়েছে।’

স্থানীয় মো. লোকমান শেখ বলেন, ‘এই স্বপ্নলোক হাউজিং প্রজেক্ট অন্যের জমি দেখিয়ে এই এলাকার অনেক নিরীহ লোকের কাছ থেকে প্লট বিক্রি করার নামে প্রতারণার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এই বিষয়ে আমরা স্থানীয় থানাকে অবগত করেছি এবং আদালতে প্রতারণা করে অর্থ নিয়ে প্লট বুঝিয়ে না দেওয়ার কারণে মামলাও করেছি। কিন্তু তাদের হাত অনেক লম্বা এবং ক্ষমতার দাপটে এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।’

এ সময় মানববন্ধনে ছিলেন মো. লোকমান শেখ, মো. ফয়েজ, মো. দেলোয়ার হোসেন তারা মিয়া, মো. শাহ আলম, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার মোয়াজ্জেম শেখ, মো. বনি, মো. মিজান, মোসাম্মৎ শিল্পী আক্তার, মঞ্জুরা বেগম, মো. জহিরুল ইসলাম প্রমুখ।

মানববন্ধনে ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করার মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। এ বিষয়ে জানতে চেয়ে অভিযুক্ত স্বপ্নলোক হাউজিংয়ের স্বত্বাধিকারী আব্দুর রউফের সঙ্গে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এএস

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন