মানবতা বিরোধী অপরাধে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসানের নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের বাড়িতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযান শুরু হয়ে চলমান আছে।
মঙ্গলবার সকাল থেকে আবার অভিযান চলবে। অভিযান শেষে গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানানো হবে বলে দুদকের মুখপাত্র তানজীর আহমেদ এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
সোমবার সকালে দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জলসিঁড়ির জিয়াউল আহসানের বাড়িতে অভিযান চালায়। বাড়িতে থাকা মালামালের জব্দ তালিকা করা হয়।
গত ৭ জানুয়ারি দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ২০২৪ সালের ১৬ আগস্ট সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে গভীর রাতে রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে নিউমার্কেট থানার একটি হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তখন থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, জিয়াউল আহসান ক্ষমতার অপব্যবহার করে তার নিজ নামে ২২ কোটি ২৭ লাখ ৭৮ হাজার টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। অনুমোদিত সীমা লঙ্ঘন করে ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার জমা করেছেন। বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা ও উত্তোলন করেছেন। এসব অর্থ তার স্ত্রী নুসরাত জাহানের সহযোগিতা-যোগসাজশে বিভিন্ন ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের নামে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তর করেছেন।
তার নামে থাকা ৮টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১২০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে। জলসিঁড়ির বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সম্পদের তালিকা করেছে দুদক।
এজাহারে আরও বলা হয়, উচ্চপদ সেনা কর্মকর্তা হওয়ার সুবাদে নিজের পদ ও অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, দণ্ডবিধি, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে শাস্তিযাগ্য অপরাধ করেছেন।
জিয়াউল আহসান সর্বশেষ টেলিযোগাযোগ নজরদারির জাতীয় সংস্থা ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহাপরিচালক ছিলেন। শেখ হাসিনা সরকারের ১৫ বছরে আলোচিত ও প্রভাবশালী ছিলেন ওই কর্মকর্তা। শেখ হাসিনা সরকার পতনের পরদিন ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
দুদক জানায়, গত ২১ জানুয়ারি ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসান ও তার স্ত্রী নুসরাত জাহানের নামে থাকা ফ্ল্যাট সিলগালা করা হয়।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের ১২ নম্বর সেক্টরের ৫০৬ নম্বর রোডের ১৪ নম্বর প্লটের জয়িতা নামের ৮তলা বাড়ির তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট তখন সিলগালা করে প্রশাসন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (আরডিসি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার পারভেজ ওই অভিযানের নেতৃত্ব দেন।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

