শরীয়তপুরে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীকে হত্যার পর লাশ টুকরো টুকরো করে ড্রামে লুকিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। পরে লাশের মাংস ফ্রিজে রাখতে গিয়ে স্থানীয়দের সন্দেহের মুখে ধরা পড়েন তিনি। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে জেলার সদর উপজেলার চন্দ্রপুর এলাকায়। নিহত জিয়া সরদার মালয়েশিয়া প্রবাসী ছিলেন। তিনি স্ত্রী আসমা আক্তারকে নিয়ে ওই এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। পুলিশ জানিয়েছে, প্রায় আট বছর আগে মোবাইল ফোনে পরিচয়ের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়। উভয়েরই এটি দ্বিতীয় বিয়ে ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলছিল। মঙ্গলবার রাতে তাদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে আসমা আক্তার লোহার রড দিয়ে জিয়া সরদারের মাথায় আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিতে আসমা লাশ ছুরি দিয়ে কয়েক টুকরো করেন। পরে হাড় ও মাংস আলাদা করে একটি ড্রামে ভরে বাসার ভেতরেই প্রায় তিন দিন রেখে দেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় একটি অটোরিকশা ভাড়া করে দেহের কিছু অংশ বস্তায় ভরে বিভিন্ন স্থানে ফেলে আসেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে আসমা হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার আটং বৃক্ষতলা এলাকা থেকে লাশে খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, স্বামীকে হত্যার পর লাশ টুকরো টুকরো করে ড্রামে ভরে রাখা হয়।
তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এমই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

