জাহাজ ভাঙা শিল্পে নতুন নেতৃত্ব, সভাপতি মহসিন চৌধুরী

উপজেলা প্রতিনিধি, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)

জাহাজ ভাঙা শিল্পে নতুন নেতৃত্ব, সভাপতি মহসিন চৌধুরী

কয়েক মাসের আইনি লড়াই, প্রশাসনিক অচলাবস্থা ও নির্বাচন ঘিরে অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দেশের জাহাজ ভাঙা ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাত শিল্পের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়েছে। শনিবার অনুষ্ঠিত বহুল আলোচিত দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে পিএইচপি ফ্যামিলির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মহসিন চৌধুরী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।

চট্টগ্রাম নগরীর রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউ হোটেলে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গণনা শেষে নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আফতাব উদ্দিন ফলাফল ঘোষণা করেন। মোট ৮৪ জন ভোটারের মধ্যে ৭১ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

বিজ্ঞাপন

নির্বাচনে সিনিয়র সহসভাপতি পদে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং সহসভাপতি পদে মো. নুরুদ্দিন রুবেল ও গাজী মোকাররম আলী চৌধুরী নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন মো. জাহেদুল হক, মো. তসলিম উদ্দিন, এসএম নুরুন নবী, মো. ফেরদৌস ওয়াহিদ, ওবায়দা আসাদি, হোসাইনুল আরেফিন এবং একেএম সাইফুল্লা সাঈদ।

সমিতির ১১টি পদের বিপরীতে ১৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও সভাপতি পদে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় মহসিন চৌধুরী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। নতুন নেতৃত্বের হাতে দায়িত্ব অর্পণের মধ্য দিয়ে দেশের অন্যতম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী ও শিল্পখাতের গুরুত্বপূর্ণ এই সংগঠনের দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান হলো।

এবারের নির্বাচন ছিল নজিরবিহীন আইনি জটিলতায় ঘেরা। সাবেক সভাপতি আমজাদ হোসেন চৌধুরীর প্রার্থিতা নিয়ে আদালত ও নির্বাচন বোর্ডের মধ্যে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারেনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাকে ঋণখেলাপি ঘোষণা করে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। পরে হাইকোর্ট তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করলেও আপিল বিভাগ সেই আদেশ স্থগিত করেন এবং পরবর্তীতে তার প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার নির্দেশ দেন।

সর্বশেষ নির্বাচন স্থগিতের দাবিতে করা সম্পূরক রিট আবেদন গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট খারিজ করে দিলে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথ পুরোপুরি উন্মুক্ত হয়। এর মধ্য দিয়ে কয়েক মাস ধরে চলা সব ধরনের আইনি বাধা ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটে।

উল্লেখ্য, মূলত গত বছরের ২৫ অক্টোবর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্বাচন পরিচালনা বোর্ড স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে না পারার অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করলে পুরো প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে পড়ে। পরে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রশাসক নিয়োগ এবং মার্চে নতুন নির্বাচন পরিচালনা বোর্ড ও আপিল বোর্ড গঠনের মাধ্যমে নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন নেতৃত্বের সামনে জাহাজ ভাঙা শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করা, পরিবেশগত ও শ্রমিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। দীর্ঘ অচলাবস্থার পর নতুন নেতৃত্ব সেই প্রত্যাশা পূরণে কতটা সফল হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন