বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, ‘আমরা বাংলাদেশে একটি সুষম সমাজ তৈরি করতে চাই, যেখানে ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান কমে আসবে এবং মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দূর হবে। এ দেশের মানুষ যাতে সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারে, সেই উদ্দেশ্যে কাজ করে যাবে।’
শনিবার নরসিংদীর আমদিয়া পাকুরিয়া স্কুলমাঠে খান ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘মাতা মরহুমা খোরশেদা বানুর’ স্মরণসভায় এ কথা বলেন তিনি।
উপস্থিত নারী সমাজের উদ্দেশ্যে ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, ‘নিজের অধিকার সম্বন্ধে সচেতন হয়ে উঠুন। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি—নিজের অধিকার যতক্ষণ না নিজেরা আপনারা কেড়ে নেবেন, ততক্ষণ কিন্তু কেউ তা দেবে না। আমরা বড়জোর আপনাদের পাশে দাঁড়াতে পারি, সহায়তা করতে পারি; সেটি প্রতিনিয়ত করে আসছি।’
নিজের পরিবারকে এ দেশের কোটি কোটি পরিবারের মতোই অত্যন্ত সাধারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমার পিতা (মরহুম আব্দুল মোমেন খান) ক্যাবিনেট সচিব ছিলেন এটা সত্যি, কিন্তু তিনি কর্মজীবন শুরু করেছিলেন ক্যালকাটা গভর্নমেন্ট কলেজে অর্থনীতির প্রভাষক হিসেবে। এমনকি আমার পিতামহ আব্দুল বারিক খানও একজন শিক্ষক ছিলেন এবং তিনি ব্রিটিশ-বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে সম্পৃক্ত থাকার কারণে চাকরিচ্যুত হয়েছিলেন।’
সভাপতির বক্তব্যে খান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট রোখসানা খন্দকার মরহুমা খোরশেদা বানুর স্মৃতিচারণ করে বলেন, তিনি ছিলেন একাধারে একজন স্নেহময়ী মা ও নিভৃতে দেশের কল্যাণে কাজ করে যাওয়া এক মহীয়সী নারী। তারই সুযোগ্য সন্তান ড. মঈন খান আজ শুধু নরসিংদী নয়, সারা দেশে তার পিতা-মাতার নাম উজ্জ্বল রেখেছেন। ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যার পর থেকে ডক্টর আব্দুল মঈন খান ও তাঁর মাতা খোরশেদা বানুর উদ্যোগে নরসিংদী এলাকায় ব্যাপক পুনর্বাসন ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম শুরু হয়, যা আজও চলমান।
পিছিয়ে পড়া ও সুবিধা-বঞ্চিত নারীদের স্বাবলম্বী করতে ১৯৯৩ সাল থেকে কাজ করে যাচ্ছে ‘খান ফাউন্ডেশন’। নারীদের অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে এই বছরও ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এলাকায় প্রায় ১৪ কোটি টাকার গ্রামীণ ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার চলমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক দলীয়করণের ঊর্ধ্বে রাখতে হবে। দলীয়করণের কারণে শিক্ষার মান ব্যাহত হচ্ছে এবং এইচএসসি পরীক্ষায় ড্রপ আউট ও পাসের হার কমে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বরাদ্দকৃত অর্থ শুধু ভবন নির্মাণে ব্যয় না করে শিক্ষার প্রকৃত মানোন্নয়নে ব্যবহার করার জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে নরসিংদী জেলা প্রশাসক নুসরাত জাহান কেয়া, পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুক, দি মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটি উপাচার্য অভিনয় চন্দ্র সাহা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবু তাহের মো. শামসুজ্জামান, পলাশ থানা বিএনপির সভাপতি আব্দুল সাত্তার, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, ঘোড়াশাল পৌরসভা বিএনপির সভাপতি আলম মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন স্থানীয় সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। মাহফিল শেষে মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

