নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার হাজারীবাগ এলাকায় অটোরিকশা স্ট্যান্ডের দখল নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ আব্দুল কুদ্দুস (৫৬) নামের একজন নিহত হয়েছে।
শনিবার রাত সাড়ে নয়টায় এ বন্দর শাহী মসজিদ এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। বন্দর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম রাত সাড়ে ১১টায় নিহত হওয়ার ঘটনা নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, বন্দর রেললাইন অটোস্ট্যান্ড নিয়ে কয়েক দিন ধরে এলাকার সাবেক কাউন্সিলর আবুল কাওসার আশার সমর্থকদের সঙ্গে আরেক সাবেক কাউন্সিলর হান্নান সরকারের সমর্থকদের দ্বন্দ্ব চলছি। শুক্রবার এ নিয়ে দু'পক্ষের সংঘর্ষে ৮ জন আহত হয়। এর জের ধরে শনিবার রাতে হান্নান সরকারের লোক বাবু-মেহেদীর নেতৃত্বে আশার সমর্থক জাফর-রনির ওপর হামলা চালায়। পরে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ চলে।
এ সময় হান্নান গ্রুপের লোকজন আশা সমর্থক আব্দুল কুদ্দুসকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লক্সে নিলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার জের ধরে আশার সমর্থক সাবেক কাউন্সিলর হান্নান সরকারের বাসায় হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। এ সময় পুলিশ তাদের বাধা দিতে গেলে তারা পুলিশের ওপর চড়াও হয়। এ সময় সেনা সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনা সম্পর্কে সাবেক কাউন্সিলর হান্নান সরকার বলেন, এই দ্বন্দ্বে আমি জড়িত নই। একটি পক্ষ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমাকে জড়িয়ে বদনাম করার চেষ্টা করছে। আমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে।
আরেক সাবেক কাউন্সিলর আবুল কাওসার আশা বলেন, এই ঘটনায় জড়িত বাবু, মেহেদী, রনি, জাফর একসময় একত্রে চলাফেরা করতো। এরা বিএনপির লোক। সম্প্রতি অটোস্ট্যান্ড নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। এখানে আশা গ্রুপ বা হান্নান সরকারের গ্রুপ বলে কেউ নেই।
বন্দর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম জানান, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছে। আমরা লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করছি। ঘটনাস্থলে থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ ও সোনা সদস্যরা গিয়েছেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

