রায়পুরায় জলাতঙ্কের গরুর মাংস বিক্রি, ভুক্তভোগীদের মামলার পরামর্শ ইউএনওর

রায়পুরায় জলাতঙ্কের গরুর মাংস বিক্রি, ভুক্তভোগীদের মামলার পরামর্শ ইউএনওর
কসাই ফারুক মিয়া

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার রাধাগঞ্জ বাজারে জলাতঙ্কে আক্রান্ত একটি রোগাক্রান্ত গরু জবাই করে বাজারে প্রকাশ্যে মাংস বিক্রি করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ফারুক মিয়া নামের এক কসাইয়ের বিরুদ্ধে। ঘটনার বিস্তারিত জানাজানি হওয়ার পর ওই মাংস কিনে খাওয়া ক্রেতা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) উপজেলার আদিয়াবাদ ইউনিয়নের রাধাগঞ্জ বাজারে এ ঘটনা ঘটে। সোমবার সকালে বিষয়টি চারদিকে জানাজানি হলে বিক্ষুব্ধ স্থানীয় লোকজন মাংস বিক্রেতা কসাই ফারুক ও গরুর মূল মালিক জয়নাল মিয়াকে আটক করে ইউএনও কার্যালয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কসাইয়ের বাজারে মাংস বিক্রির ওপর তাৎক্ষণিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, আদিয়াবাদ ইউনিয়নের রাধাগঞ্জ গ্রামের গৃহস্থ জয়নাল মিয়ার গৃহপালিত একটি গরুকে সম্প্রতি কুকুরে কামড়ায়। পরে গরুটি জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত হলে তা গোপনে ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে স্থানীয় মাংস ব্যবসায়ী ফারুক মিয়ার কাছে বিক্রি করে দেন তিনি। গত শনিবার ভোরে ফারুক কসাই রোগাক্রান্ত গরুটি রাধাগঞ্জ বাজারে জবাই করেন। গরুটির মাংস মেপে প্রায় সাড়ে চার মণ হয় এবং বাজারের সাধারণ ক্রেতারা স্বাভাবিক দামে তা কিনে নিয়ে গিয়ে রান্না করে খান। এর পরপরই এলাকায় খবর রাষ্ট্র হয়ে যায় যে, গরুটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত ছিল।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানান, প্রাণিসম্পদ বিভাগের এআই টেকনিশিয়ান ও উপসহকারী কর্মকর্তা রফিক বিষয়টি জানতে পেরে আগে সরেজমিনে গরুটি পরিদর্শন করেছিলেন। গরুটি জলাতঙ্কে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হওয়ায় তিনি মালিককে এটি সম্পূর্ণ আলাদা করে রাখার পরামর্শ দেন এবং কোনো অবস্থাতেই এটি বিক্রি না করার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করেন। পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দেরও সচেতন করেছিলেন। তবে আমাদের নির্দেশনা অমান্য করে এবং আমাদের না জানিয়েই গরুর মালিক সেটি কসাইয়ের কাছে বিক্রি করে দেন। পরে কসাই গোপনে সেটি জবাই করে বাজারে মাংস বিক্রি করে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা জানান, ঘটনাটি স্থানীয়দের মুখে জানাজানি হওয়ার পর তারা গরুর মালিক ও মাংস বিক্রেতাকে আমার কাছে নিয়ে আসেন। প্রাথমিকভাবে ওই মাংস বিক্রেতাকে রাধাগঞ্জ বাজার থেকে মাংস বিক্রি করতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। এ ছাড়া এ ঘটনায় প্রতারিত ও ভুক্তভোগী ক্রেতা বা স্থানীয়দের কেউ চাইলে প্রচলিত আইনে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন