শেষ হয়ে গেলো দুই ভাইয়ের স্বপ্ন

কুলিয়ারচরে পুকুরে বিষ ঢেলে মাছ নিধনের অভিযোগ

উপজেলা প্রতিনিধি, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ)

কুলিয়ারচরে পুকুরে বিষ ঢেলে মাছ নিধনের অভিযোগ

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তদের বিষ প্রয়োগে মারা গেছে প্রায় ১৮ হাজার মাছ। এক রাতেই শেষ হয়ে গেছে দুই ভাইয়ের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন, আশা এবং বেঁচে থাকার শেষ অবলম্বন।

এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার রামদী ইউনিয়নের আগরপুর পূর্বপাড়া গ্রামে। দরিদ্র এই পরিবারের ক্ষতিগ্রস্ত আপন দুই ভাই মো. রফিক মিয়া ও কাদির মিয়া বহু কষ্টে ধারদেনা করে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে টাকা জোগাড় করেছিলেন। তারপর অন্যের ৭৫ শতাংশ জমির একটি পুকুর লিজ নিয়ে প্রায় আট মাস আগে শুরু করেন মাছের চাষ। এই পুকুরই ছিল তাদের স্বপ্ন, সন্তানদের লেখাপড়ার স্বপ্ন, বৃদ্ধ মা-বাবার মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন, অভাবের সংসারে একটু স্বস্তি ফেরানোর স্বপ্ন।

বিজ্ঞাপন

দুই ভাইয়ের আশা ছিল, কোরবানির ঈদের পর পুকুরের মাছ বিক্রি করে একটি ছোট্ট ঘর তুলবেন। সন্তানদের স্কুলের খরচ দেবেন। বৃদ্ধ মা-বাবার ওষুধ কিনে দেবেন। সংসারে একটু ভালো খাবার উঠবে, দুঃখের দিন হয়তো কিছুটা কমবে। কিন্তু নিমেষেই শেষ হয়ে গেল তাদের সেই স্বপ্ন।

শনিবার গভীর রাতে পুকুরে গিয়ে তারা দেখেন, পানির ওপরে ভেসে আছে হাজার হাজার মরা মাছ। অভিযোগ উঠেছে, কে বা কারা রাতের আঁধারে বিষ ঢেলে সব মাছ মেরে ফেলেছে। সেই দৃশ্য দেখে রফিক মিয়া আর নিজেকে সামলাতে পারেননি। পুকুরপাড়ে বসে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। কাদির মিয়া নির্বাক হয়ে শুধু তাকিয়ে ছিলেন পানির দিকে। যেন চোখের সামনে ডুবে যাচ্ছে তাদের ভবিষ্যৎ। রফিক মিয়ার কণ্ঠে তখন শুধু একটাই আর্তনাদ— “এই পুকুরেই তো আমাদের সব স্বপ্ন ছিল। এখন আমরা বাঁচব কীভাবে?" সন্তানের লেখাপড়ার খরচ কীভাবে চালাব? এক রাতেই শেষ হয়ে গেল সব আশা ও স্বপ্ন।

স্থানীয়দের দাবি, এতে প্রায় ১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তবে এই ক্ষতি শুধু টাকার নয়, এই ক্ষতি দুই ভাইয়ের জীবনসংগ্রামের, ভবিষ্যতের, বৃদ্ধ মা-বাবার শেষ আশ্রয়ের। এলাকাবাসী এই অমানবিক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন