খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

বিশেষায়িত হাসপাতালে শুরু হচ্ছে একাডেমিক কার্যক্রম

বিশেষায়িত হাসপাতালে শুরু হচ্ছে একাডেমিক কার্যক্রম

প্রতিষ্ঠার পাঁচ বছর পর একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে। এর মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ পেতে চলেছে। প্রস্তুতিপর্ব শেষ হলে আগামী জানুয়ারিতে মাস্টার্সে ভর্তি শুরু হবে। এতে স্বাস্থ্যশিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের উন্নত চিকিৎসা প্রাপ্তিতে দুর্ভোগ, ভোগান্তি ও প্রতিকূলতার অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়টির চিকিৎসা, একাডেমিক, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ‘খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতাল’কে ক্যাম্পাস হিসেবে ব্যবহারের প্রশাসনিক অনুমোদন মিলেছে। গত ১২ আগস্ট স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত সরকারি আদেশ জারি করা হয়।

বিজ্ঞাপন

২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো নিজস্ব ভবন বা ক্যাম্পাস ছিল না। নগরীর নিরালা আবাসিক এলাকায় ভাড়া ভবনে সাময়িকভাবে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রশাসনিক কাজে নিয়োজিত আছেন ৩৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। তবে নির্দিষ্ট ক্যাম্পাস না থাকায় দীর্ঘদিনেও বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি। বিগত সরকারের সময় বিশ্ববিদ্যালয়টিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে চরম দলীয়করণ হলেও একাডেমিক কার্যক্রম শুরুতে উল্লেখযোগ্য তৎপরতা দেখা যায়নি।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবে নিয়োগ পান দেশের খ্যাতনামা চিকিৎসক ও রোবোটিক সার্জন প্রফেসর ডা. রফিকুস সালেহীন। প্রথম থেকেই তিনি নিজস্ব ক্যাম্পাসের জন্য জোর তৎপরতা শুরু করেন। জাতীয় সংসদের হুইপ ও খুলনা-৩ আসনের এমপি রকিবুল ইসলাম বকুলের একান্ত প্রচেষ্টায় অবশেষে অনুমোদন পাওয়া সম্ভব হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ডা. রফিকুস সালেহীন বলেন, খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালকে ক্যাম্পাস হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি আমাদের জন্য বড় প্রাপ্তি। এটি খুলনা অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্যশিক্ষা ও চিকিৎসা গবেষণার ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

তিনি জানান, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পর দেশের দ্বিতীয় বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কার্যক্রম শুরু করবে, যা খুলনা বিভাগের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালকে একাডেমিক কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহার করার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই জানিয়ে ভিসি বলেন, মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস কোর্সে শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রচুর থাকে। কিন্তু মাস্টার্স কোর্সে সীমিত শিক্ষার্থী থাকে। ফলে বড় পরিসরে ক্লাসরুম কিংবা গ্যালারি প্রয়োজন নেই। এই হাসপাতালে পোস্টেড ও ডেপুটেশনে পর্যাপ্তসংখ্যক অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক রয়েছেন। ফলে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করতে কোনো সমস্যা হবে না। এরপরও শিক্ষক প্রয়োজন হলে, নিয়োগ দেওয়া হবে।

খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালে হার্ট, কিডনি, ক্যানসার ও নিউরো রোগের উন্নত ও আধুনিক চিকিৎসা পাওয়া যায়। তবে সীমিতসংখ্যক শয্যা ও অপ্রতুল বরাদ্দের কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ সেবা বঞ্চিত থাকেন। বিশেষ করে আইসিইউ ও সিসিইউ ইউনিটে বেড পেতে এবং নানা টেস্টের জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয়। মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হলে এসব প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে স্বাস্থ্যসেবাকে তৃণমূল মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

একই সঙ্গে খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাস স্থাপনের ১ম প্রকল্পের ১০০ একর ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের মহাপরিকল্পনা তিনটি প্রকল্পের মাধ্যমে এক হাজার শয্যার হাসপাতাল, একাডেমিক, প্রশাসনিক, ডাক্তার, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য আবাসন সুবিধা, ক্যানসার চিকিৎসার জন্য ডেডিকেটেড হাসপাতাল ইউনিট, রোগীদের জন্য প্রিভেন্টিভ চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা ও প্রয়োজনীয় সব সুবিধাসহ বাংলাদেশের অনন্য চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করার কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।

এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে জাতীয় সংসদের হুইপ ও খুলনা-৩ আসনের এমপি রকিবুল ইসলাম বকুল আমার দেশকে বলেন, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খালিশপুরে নির্বাচনি জনসভায় দাঁড়িয়ে জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ওয়াদা করেছিলেন। এটি সেই অঙ্গীকার পূরণের একটি ধাপ। একই সঙ্গে তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য সচিবের আন্তরিক সহযোগিতার কথা স্মরণ করেন।

তিনি আরো বলেন, খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় অবশ্যই নিজস্ব ক্যাম্পাসে যাবে, কিন্তু সেটি সময়সাপেক্ষ। এজন্য আমরা দেরি না করে বিশেষায়িত হাসপাতালেই একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছি। এটা শুরু হলে এই জনপদের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির চিত্রই বদলে যাবে। আমাদের সৌভাগ্য একজন খ্যাতনামা রোবোটিক সার্জনকে ভিসি হিসেবে পেয়েছি। এখানে স্বতন্ত্র রোবোটিক সার্জারি ইউনিট হবে। ওপেন হার্ট সার্জারি, রিং স্থাপন, কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস, ক্যানসার রোগের ব্যয় কমিয়ে আনার মাধ্যমে নিম্নআয়ের মানুষের কাছেও স্বাস্থ্যসেবাকে নিয়ে যাওয়া হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন