শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, এখন শিক্ষকদের সবাই শহরে আসতে চায়। বিগত ২০ বছর ধরে যে সব শিক্ষক গ্রামের স্কুল থেকে শহরে এসেছেন তাদের তালিকা করা হচ্ছে। তাদেরকে আবার গ্রামের স্কুলে ফিরে যেতে হবে। তালিকা তৈরির জন্য এরই মধ্যে মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, জুলাই থেকে প্রতিটি প্রাথমিকে শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেস ও একই সাথে মিড ডে মিল চালু করা হবে। এছাড়া আগামীতে মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডেও অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের অডিটোরিয়ামে আসন্ন এইচএসসি/সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে কেন্দ্র সচিবদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, যশোর ও খুলনাস্থ বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০০৬ সালে আমরা নকল শেষ করে এসেছি। সকলে মিলে নকলের দাফন, কাফন ও চল্লিশা খেয়ে চলে গেলাম। কিন্তু এখন আবার নকলের নতুন ভেরিয়েন্ট তৈরি হয়েছে। পরীক্ষা কেন্দ্রে ডিজিটাল নকল হতে পারবে না। পরীক্ষার হলে বই খাতা পাওয়া গেলে হল সুপারকে এর দায় নিতে হবে। পরীক্ষার হলে যারা দায়িত্বে থাকবেন দায়িত্ব অবহেলায় তাদেরকেও শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, ৯টি শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার আশংকা করছেন কেউ কেউ। কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁস হবে আর আমরা বসে বসে চকলেট খাব তা হবে না। কেউ ফেসবুকে ভুয়া প্রশ্নপত্র দিলে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে পিক করবেন। এবং ওই প্রশ্নপত্র ফাঁস তাকে প্রমান করতে হবে। ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র সঠিক কিনা তা যাচাই বাছাইয়ের আগে যিনি ফেসবুকে প্রশ্নপত্র দিচ্ছেন তাকে পিক করা হবে।
শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, ২০২২ সাল থেকে যে সকল শিক্ষক অবসরে গেছেন তারা কল্যাণ ভাতা ও অবসর ভাতা পাননি। অবসরে যাওয়া এসব শিক্ষকদের বকেয়া কল্যাণ ভাতা ও অবসর ভাতা শিগগিরই পরিশোধ করা হবে। তিনি বলেন, এখন গ্রামের শিক্ষকদের সবাই শহরে আসতে চায়। এভাবে সব ঢাকা শহরে সিলেট শহরে রাজশাহী খুলনা শহরে চলে আসে। বিগত ২০ বছর ধরে যে ট্রান্সফারগুলো হলো তার তালিকা করা হচ্ছে। যারা গ্রামের স্কুল থেকে ফাঁকি দিয়ে শহরে এসেছেন, তাদের আবার গ্রামে ফিরে যেতে হবে।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ফারুখে আযম মু. আবদুস ছালাম। বক্তৃতা করেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল্লাহ হারুন, রেঞ্জ ডিআইজি মো. রেজাউল হক, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, কেডিএ চেয়ারম্যান এসএম শফিকুল আলম মনা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

