চিকিৎসা নিতে গিয়ে কলকাতার একটি হোটেলে ভয়াবহ আগুনে দগ্ধ হয়ে নিহত আলিমুজ্জামান সাজুর লাশ দেশে আনা হয়েছে। শনিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরের জিরো পয়েন্টে বিজিবি, পুলিশ ও বিএসএফের উপস্থিতিতে নিহতের ভাই মাহমুদুল হাসান দীপুর কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীতে বিকেল ৫টায় কালিগঞ্জের বরেয়া সরদার বাড়ি জামে মসজিদে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন হয়।
আলিমুজ্জামান সাজু সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বরেয়া গ্রামের ইউনুস সরদারের ছেলে। রেবতী সরকার একই উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের ভবেশ সরকারের স্ত্রী।
মাহমুদুল হাসান দীপু জানান, কোমরের ব্যথার চিকিৎসার জন্য তার ভাই আলিমুজ্জামান সাজু আট দিন আগে ভারতে যান। গত ১৯ আগস্ট দিবাগত রাতে কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার ‘হোটেল শিখা ইন’ এ আগুন লাগলে তিনি দগ্ধ হয়ে মারা যান। আইনি প্রক্রিয়া শেষে শনিবার দুপুরে ভোমরা বন্দরের জিরো পয়েন্টে ভারতীয় বিএসএফ মরদেহটি বাংলাদেশে দায়িত্বরত বিজিবি ও পুলিশের উপস্থিতিতে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে। দুপুর ২টার দিকে লাশ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে শেষবারের মতো দেখতে শত শত মানুষ ভিড় জমান এবং শোক প্রকাশ করেন। পরে বিকেলে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়।
তবে গত ১৯ আগস্ট রাতে একই দুর্ঘটনায় নিহত রেবতী সরকার নামে আরেকজনের লাশ শুক্রবার রাত ১১টায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার নিমাইতীর্থ মহাশ্মশানে সৎকার করা হয়।
রেবতীর ছেলে অনিক সরকার জানান, ১২ আগস্ট তার মা চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারত যান। ১৯ আগস্ট রাতে ‘হোটেল রাখি ইন’এ দগ্ধ হয়ে তিনি মারা যান। শুক্রবার রাত ১১টায় পশ্চিমবঙ্গের হুগলির নিমাইতীর্থ শ্মশানঘাটে তাকে শেষকৃত্য করা হয়েছে।
ভোমরা ইমিগ্রেশন পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সজীব বালা এবং ভোমরা বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার আফজাল হোসেন নিশ্চিত করেছেন যে, প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে শনিবার দুপুর সোয়া ১২টায় আলিমুজ্জামান সাজুর লাশ তার স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

