খুলনায় পৃথক দুটি অভিযানে চারটি বিদেশি পিস্তল, পাঁচটি ম্যাগাজিন ও ১১ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করেছে খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও থানা পুলিশ। এসব ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে রিফাত তালুকদার (২১) এবং আব্দুল আওয়াল (২৫)।
বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত সোনাডাঙ্গা ও লবণচরা থানা এলাকায় অভিযান দুটি পরিচালনা করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কেএমপির ডিবি কার্যালয়ে ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া এ সব তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, , গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ জানতে পারে, খুলনা মহানগরের শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত চিংড়ী পলাশের বাসায় যশোর থেকে কয়েকজন অস্ত্রধারী অবস্থান করছেন। ওই সংবাদের ভিত্তিতে খুলনা মহানগর ডিবি পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার রিপন চন্দ্র সরকারের নেতৃত্বে একটি দল বুধবার দিবাগত রাত ১টা ৪৫ মিনিট থেকে রাত ৩টা ১০ মিনিট পর্যন্ত অভিযান চালায়।
অভিযানে সোনাডাঙ্গা মডেল থানার গোবরচাকা শাহিনুর জামে মসজিদ রোডের খালাসীবাড়ি মোড়ের হোল্ডিং নম্বর-২২-এর বাসা থেকে রিফাত তালুকদার (২১) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি যশোরের কোতোয়ালি থানার শংকরপুর বাস টার্মিনাল এলাকার ইদ্রিস তালুকদারের ছেলে।
প্রেসবিফ্রিংয়ে জানানো হয়, , রিফাতকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই দুইতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার পূর্ব পাশের একটি কক্ষে তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকে তিনটি বিদেশি পিস্তল, চারটি ম্যাগাজিন ও নয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
প্রেসব্রিফিংয়ে পুলিশ আরও জানায়, অস্ত্র উদ্ধারের স্থানটি চিংড়ী পলাশ নামে পরিচিত মো. পলাশ তালুকদারের বাসা। চিংড়ী পলাশ বর্তমানে কারাগারে রয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সে আগে ‘বি কোম্পানি’ নামে পরিচিত একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্য ছিল।
অন্যদিকে, লবণচরা থানার হরিণটানা আশিবিঘা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, লবণচরা থানার একটি হত্যা মামলার আসামি আব্দুল আউয়ালকে (২৫) বুধবার গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি খুলনা সদর থানার পশ্চিম টুটপাড়া এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে। পুলিশের দাবি, ওই মামলায় আগে গ্রেপ্তার হওয়া এক আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে আউয়ালের নাম উল্লেখ করেন। পরে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদে আউয়াল অবৈধ অস্ত্রের বিষয়ে তথ্য দেন।
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সহকারী পুলিশ কমিশনার (খুলনা জোন) মো. শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে এবং লবণচরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোশাররফ হোসেনসহ পুলিশের একটি দল বুধবার রাত পৌনে ১২টার দিকে হরিণটানা আশিবিঘা এলাকায় অভিযান চালায়।
অভিযানকারীরা আল আকসা মসজিদ গলিতে ইসরাফিলের বাড়ির একটি পরিত্যক্ত দোচালা টিনের ঘরে তল্লাশি চালান। একপর্যায়ে কাঠের গুঁড়ির বস্তার নিচে লুকানো অবস্থায় একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।
প্রেসব্রিফিংয়ে ডিবির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার বলেন, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলো ভারত থেকে সাতক্ষীরা ও বেনাপোল সীমান্ত এলাকা দিয়ে পাচার হয়ে যশোর ও সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী এলাকা হয়ে খুলনায় আসছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। অস্ত্রের উৎস ও এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত চলছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পৃথক দুই অভিযানে উদ্ধার হওয়া চারটি বিদেশি পিস্তল, পাঁচটি ম্যাগাজিন ও ১১ রাউন্ড গুলির বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি এসব অস্ত্রের সঙ্গে আরও কারা জড়িত এবং এগুলো কোথায় ব্যবহারের জন্য আনা হয়েছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

