দেশের সব বন্দরকে রাজনৈতিক বলয়মুক্ত করে সুস্থ, স্বচ্ছ ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান। তিনি বলেছেন, বন্দর কোনো রাজনৈতিক বলয়ের জায়গা নয়। বন্দর পরিচালনায় কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না।
বুধবার দুপুর ১২টার দিকে কোনো পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি বা প্রটোকল ছাড়াই হঠাৎ বেনাপোল স্থলবন্দর পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী বন্দরের বিভিন্ন শেড ঘুরে দেখেন এবং পণ্য সংরক্ষণ ও খালাস কার্যক্রমের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। একই সঙ্গে বন্দরের বিদ্যমান সমস্যা, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম, সেবার মান এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দরসহ বন্দরের কার্যক্রমে এক ধরনের রাজনৈতিক নেতৃত্বের কর্তৃত্ব রয়েছে। এর ফলে অনেক সময় প্রকৃত ব্যবসায়ীরা স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন না। সরকার এ পরিস্থিতির পরিবর্তন করতে চায়।
তিনি বলেন, প্রকৃত ব্যবসায়ী, আমদানিকারক, রপ্তানিকারক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে বন্দরের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। ব্যবসায়ীরা যাতে নির্বিঘ্নে ও হয়রানিমুক্ত পরিবেশে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমকে গতিশীল করতে বন্দরে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব, অনিয়ম কিংবা ব্যক্তিস্বার্থের কারণে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সেদিকে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকতে হবে।
বেনাপোল স্থলবন্দরের গুরুত্ব তুলে ধরে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিতে বেনাপোল বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের বড় একটি অংশ এই বন্দরকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়। ফলে বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সেবার মান বাড়ানোর ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
তবে শুধু অবকাঠামোর উন্নয়ন করলেই হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বন্দরের সেবার মান, পণ্য খালাসের গতি, ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। ব্যবসায়ীরা যাতে দ্রুত, সহজ ও হয়রানিমুক্তভাবে সেবা পান, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।
প্রতিমন্ত্রী বন্দরের বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান। একই সঙ্গে বন্দরের আধুনিকায়ন ও কার্যক্রমে গতি আনতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেন।
পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ী, আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে বন্দরের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। তাদের সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে শুনে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।
তিনি বলেন, কোনো অনিয়ম, প্রভাব কিংবা স্বার্থের কারণে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম যেন বাধাগ্রস্ত না হয়। বন্দরের সেবাকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, বেনাপোল বন্দরের উন্নয়নের সঙ্গে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের একটি বড় অংশ জড়িত। বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো গেলে দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। এ জন্য বন্দরের উন্নয়ন ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ স্থলবন্দর চেয়ারম্যান মানজারুল মান্নান, যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) মাসুম খানসহ বন্দর ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

-0acdec-720x405.webp)