পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির সরেজমিন পরিদর্শন

আমার দেশ-এ সংবাদ প্রকাশের পর স্কুল মাঠে মাটি কাটার সত্যতা মিলল

আমার দেশ-এ সংবাদ প্রকাশের পর স্কুল মাঠে মাটি কাটার সত্যতা মিলল

বাগেরহাটের মোংলায় বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে রাতের আঁধারে মাটি কেটে ড্রেন তৈরির অভিযোগ নিয়ে ‘আমার দেশ’-এ সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযোগ তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করে মাঠের বিভিন্ন স্থানে মাটি কাটার চিহ্ন ও বড় বড় গর্ত দেখতে পেয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

বিষয়টি নিয়ে এখন মূল প্রশ্ন—কার অনুমতিতে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে মাটি কাটা হলো, কার নির্দেশে ড্রেন তৈরি করা হয়েছে এবং এতে সরকারি সম্পত্তির কতটুকু ক্ষতি হয়েছে?

ঘটনাটি মোংলা উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের বুড়বুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বুড়বুড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন খেলার মাঠের। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয় বন্ধ থাকার সুযোগে শুক্রবার ও শনিবার রাতের আঁধারে মাঠের বিভিন্ন অংশে মাটি কেটে পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন তৈরি করা হয়। এতে মাঠের পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ঝুঁকিতে পড়েছে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও নিরাপত্তা।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের অনুমতি বা অবগত না করেই এই খননকাজ করা হয়েছে।

বুড়বুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নাজমুল বাদশা বলেন, স্কুল কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে তিনি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করতে চান। তার দাবি, রাতের আঁধারে যারা মাঠ ধ্বংসের পাঁয়তারা করছেন, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। একই সঙ্গে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জুলেখা খানম বলেন, সকালে স্কুলে এসে মাঠ খনন করা অবস্থায় দেখতে পান। এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না এবং তার কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি।

তবে মাটি কাটার কাজ করেছেন বলে অভিযোগ ওঠা লাভলী মজুমদারের দাবি, বৃষ্টির পানিতে তার বাড়িঘর ও গাছপালা তলিয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশনের জন্য মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলেই পাইপ বসানোর কাজ শুরু করেন তিনি। এ জন্য নিজের ২০ হাজার টাকা খরচ করে পাইপ কেনার কথাও জানান তিনি।

অন্যদিকে মাটি কাটার অনুমতি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বুড়বুড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ধীরেন্দ্র নাথ মৃধা। তার দাবি, পানি সরানোর জন্য পাইপ নেওয়ার বিষয়ে কথা হলেও মাঠের ভেতর দিয়ে ড্রেন কাটার অনুমতি তিনি দেননি। কাজ শুরু হওয়ার পর বিষয়টি জানতে পেরে ম্যানেজিং কমিটিকে জানিয়ে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এদিকে ‘আমার দেশ’-এ সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা প্রশাসন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটিতে রয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান, মোংলা থানার পুলিশ পরিদর্শক মানিক চন্দ্র গাইন, বুড়বুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জুলেখা খানম, সুন্দরবন ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং সুন্দরবন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. খান জাহান সরদার।

তদন্ত কমিটির সদস্যরা মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে মাঠ পরিদর্শন করে মাটি কাটার চিহ্ন, বড় গর্ত ও ড্রেন তৈরির আলামত দেখতে পান।

তদন্ত কমিটির সদস্য ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান আমার দেশকে বলেন, আমরা সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। মাঠের বিভিন্ন জায়গায় মাটি কাটার বিষয়টি দেখা গেছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত ঘটনা ও এর সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের শনাক্ত করা হবে। এরপর প্রতিবেদন দেওয়া হবে, যাতে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

স্থানীয় শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর দাবি, তদন্ত যেন কোনোভাবেই দীর্ঘসূত্রতায় না পড়ে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে দায়ীদের শনাক্ত করতে হবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মাঠটি দ্রুত সংস্কার করে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ খেলাধুলার পরিবেশ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি তাদের।

এআরবি

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন