বাগেরহাটের মোংলার সুন্দরবনের জয়মনিরঘোল এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের একটি স্টেশনে অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় কোস্টগার্ডের তিন সদস্য আহত হয়েছেন। হামলার পেছনে কোস্টগার্ডকে ওই এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলে অভিযোগ করেছে বাহিনীটি।
তবে স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, প্রায় দেড় মাস আগে মিরাজ নামে এক যুবকের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
বৃহস্পতিবার সকালে সুন্দরবনের হাড়বাড়ীয়া এলাকার জয়মনিরঘোলে অবস্থিত কোস্টগার্ড স্টেশনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। কোস্টগার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, একদল দুর্বৃত্ত অতর্কিতভাবে কোস্টগার্ড স্টেশনে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের ওপর হামলা হলে তিনজন কোস্টগার্ড সদস্য আহত হন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে যৌথ অভিযান শুরু করা হয়েছে।
কোস্টগার্ডের দাবি, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ও অসাধু চক্র নিজেদের অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুবিধার্থে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালিয়েছে। সুন্দরবনে বনদস্যু দমন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং কোস্টগার্ডের চলমান কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতেই এ ধরনের অপতৎপরতা চালানো হচ্ছে।
তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দেড় মাস আগে জয়মনিরঘোল এলাকা থেকে মিরাজ নামে এক যুবককে কোস্টগার্ড পরিচয়ে কয়েকজন ব্যক্তি তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তরে যোগাযোগ করেন। সে সময় কোস্টগার্ড কর্তৃপক্ষ মিরাজ সম্পর্কে কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই বলে পরিবারকে জানায় বলে দাবি করা হয়েছে।
নিখোঁজের প্রায় ২০ দিন পর মিরাজের পরিবারের সদস্যরা মোংলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। পরে তারা কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিলও করেন। এর আগে বাগেরহাট প্রেসক্লাবেও সংবাদ সম্মেলন করে মিরাজের স্ত্রী, মা ও স্বজনরা তার সন্ধান দাবি করেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, মিরাজের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও রহস্য উদ্ঘাটনের দাবিতে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ বিরাজ করছিল। তবে বৃহস্পতিবারের হামলার সঙ্গে ওই ঘটনার সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কোস্টগার্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে। একই সঙ্গে সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলো তৎপর রয়েছে বলে জানা গেছে।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

