ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে সূর্য ডুবলেই প্রবেশ করছে ভারতীয় গরু। বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে দেশ এসব গরু প্রবেশ করানো হচ্ছে। একই সঙ্গে এসব রুট ব্যবহার করে মাদক ও অবৈধ অস্ত্রও আনা হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয় সূত্র বলছে, মহেশপুর উপজেলার লড়াইঘাট, বাঘাডাঙ্গা, পলিয়ানপুর, মাটিলা, রাজাপুর, কুসুমপুর ও বেনীপুর সীমান্ত ঘিরে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী পাচার সিন্ডিকেট। বিশেষ করে গরু পাচারকে কেন্দ্র করে সীমান্তের কয়েকটি রুটে গভীর রাতে চলে অবৈধ পারাপার।
অভিযোগ রয়েছে, বিএসএফের কিছু অসাধু সদস্যের সহযোগিতায় সীমান্তের নির্দিষ্ট পয়েন্ট দিয়ে ভারতীয় গরু বাংলা দেশে প্রবেশ করছে। ভারতের নদীয়া ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু এনে মহেশপুর সীমান্তের লড়াইঘাট ও হাড়িঘাটা সংলগ্ন পয়েন্ট ব্যবহার করে বাংলাদেশে ঢোকানো হয়। পরে এসব গরু কুমিল্লা, চুয়াডাঙ্গার শিয়ালমারি হাটসহ দেশের বিভিন্ন পশুর হাটে বিক্রি করা হচ্ছে।
বিজিবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত বিভিন্ন মাদকদ্রব্য জব্দের ঘটনায় ৪৫টি মামলা হয়েছে। এ সময়ে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকের মধ্যে রয়েছে ২১ হাজার ৬১৩ বোতল ফেনসিডিল, ১৪ হাজার ২২২ বোতল মদ, ১৬৭ দশমিক ৮৫৩ কেজি গাঁজা, ৮৮ হাজার ৪১৩ পিস ইয়াবা ও ইয়াবা ট্যাবলেট এবং হেরোইনসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চোরাচালান চক্রের সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় সীমান্ত এলাকায় অনেকেরই জানা। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মামলা দুর্বল হওয়ায় অভিযুক্তরা দ্রুত জামিনে বেরিয়ে আসে এবং পুনরায় একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। এতে সীমান্তে অপরাধ নিয়ন্ত্রণের বদলে আরও বিস্তৃত হচ্ছে।
অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, সীমান্তের আটটি ঘাটকে (চোরাচালান প্রবেশের স্থান) কেন্দ্র করে কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য গড়ে উঠেছে। এছাড়া গরু, মাদক ও অস্ত্রের নিরাপদ পারাপারে ভারত সিমান্তের অভ্যন্তরে ওমরপুর এলাকার বিএসএফ সদস্য সেলিম ও মহেশপুর উপজেলার শ্যামকুড় ইউনিয়নের ইদু শেখের ছেলে মোমিনুরের বিশেষ সহযোগিতা রয়েছে বলে অভিযোগ আছে।
স্থানীয়দের দাবি, মাসোহারাভিত্তিক নিয়ন্ত্রণে এসব রুট ব্যবহার করে গরু, মাদক ও অন্যান্য চোরাই মালামাল পারাপার হচ্ছে। চোরাচালানকে কেন্দ্র করে অতীতে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।
মহেশপুর ৫৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম বলেন, সীমান্ত দিয়ে মাদক ও গরুসহ যেকোনো চোরাচালান বন্ধ, জাল নোট পাচার রোধ এবং পুশইন প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। সীমান্তে টহল এবং গোয়েন্দা নজরদারি পূর্বের তুলনায় অনেক বাড়ানো হয়েছে। ফলে সব ধরনের চোরাচালান বা পাচার বহুলাংশে বাড়ানো সম্ভব হয়েছে। এছাড়া বিজিবি কর্তৃক নিয়মিত জনসচেতনতামূলক মতবিনিময় সভার মাধ্যমে সীমান্তবর্তী জনগণকে এ ব্যাপারে সচেতন করা হচ্ছে।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

