ঢাকায় চিকিৎসার জন্য মেয়ের বাসায় যাওয়া হলো না মর্জিনা খাতুনের (৫৫)। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনি। পরে লাশ উদ্ধার করে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের জুগিয়া রাস্তাপাড়া কবরস্থানে দাফন করা হয়।
রাজবাড়ীর পাংশা পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ে বিলিং সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন কুষ্টিয়া শহরের জুগিয়া পালপাড়া এলাকার বাসিন্দা মর্জিনা খাতুন। তার স্বামী আবু বকর সিদ্দিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।
জানা গেছে, বুধবার চিকিৎসার জন্য ঢাকায় মেয়ের বাসায় যাওয়ার জন্য পাংশা থেকে বাসে ওঠেন মর্জিনা খাতুন। পরে দৌলতদিয়া ঘাটে পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে যায় বাসটি। এ দুর্ঘটনায় মারা যান তিনি।
আবু বক্কর সিদ্দিক ও মর্জিনা খাতুন দম্পতির দুই মেয়ে। বড় মেয়ে আমেনা খাতুন গৃহিণী। ছোট মেয়ে ফাতেমা ফারহানা সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের প্রভাষক। তবে একটি কোর্স করার জন্য ঢাকায় আছেন। তারা দুই বোনই ঢাকার মিরপুরে থাকেন।
দাফন শেষে মর্জিনার স্বামী আবু বকর সিদ্দিক জানান, তিনি ঢাকায় মেয়ের বাসায় ছিলেন। তার স্ত্রী দুপুরে অফিসের কাজ শেষ করে বাসে ওঠার সময় একবার কথা বলেছিল। এরপর আর কথা হয়নি। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে তিনি লাশ দেখতে পান। তিনি আরো জানান, মর্জিনার পিত্তথলিতে পাথর ছিল। সেই চিকিৎসা করানোর জন্য ঢাকায় যাচ্ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার দুপুর সোয়া দুইটার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায় সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস। পরে বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে যায় বাসটি। বাসটিতে ৫৬ জনের মতো যাত্রী ছিলেন বলে বাসযাত্রীরা জানিয়েছেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

