আটক ২

সুন্দরবনে পৃথক অভিযানে হরিণ শিকারের ৪২ ফাঁদ উদ্ধার

উপজেলা প্রতিনিধি, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা)

সুন্দরবনে পৃথক অভিযানে হরিণ শিকারের ৪২ ফাঁদ উদ্ধার

সুন্দরবনে পৃথক অভিযানে হরিণ শিকারের ৪২টি ‘মালা ফাঁদ’ উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। একই সঙ্গে অভয়ারণ্যে অবৈধভাবে প্রবেশ করে মাছ ও কাঁকড়া শিকারের অভিযোগে দুই জেলেকে আটক করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের বেলায়েতের ভারানি ও ছেড়ার খাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব ফাঁদ উদ্ধার করেন মুন্সিগঞ্জ টহল ফাঁড়ির সদস্যরা।

বিজ্ঞাপন

মুন্সিগঞ্জ টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তফা জাহিদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বনের ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে পেতে রাখা ৪২টি ফাঁদ উদ্ধার করা হয়। ফাঁদগুলো এমনভাবে স্থাপন করা ছিল, যাতে বনে বিচরণরত হরিণ সহজেই আটকা পড়ে।

এদিকে, সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের কদমতলা ফরেস্ট স্টেশনের আওতাধীন ডিঙ্গি মারি অভয়ারণ্য এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে বন বিভাগের স্মার্ট টহল দল। এ সময় অভয়ারণ্যে অবৈধভাবে প্রবেশ করে মাছ ও কাঁকড়া শিকারের অভিযোগে দুই জেলেকে আটক করা হয়।

আটকরা হলেন, শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধুমঘাট গ্রামের মৃত দাউদ গাজীর ছেলে আইয়ুব আলী গাজী (৫০) এবং একই এলাকার মৃত আরশাদ আলী মোড়লের ছেলে জমাত মোড়ল (৬০)।

স্মার্ট টহল টিমের লিডার সাইদুর রহমান জানান, অভিযানের সময় একটি নৌকাসহ প্রায় ৩০ কেজি কাঁকড়া এবং মাছ-কাঁকড়া ধরার বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। পরে বন আইনে মামলা দায়ের করে মঙ্গলবার দুপুরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. মশিউর রহমান বলেন,সুন্দরবনে অবৈধ শিকার ও বনজ সম্পদ আহরণ রোধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অন্যদিকে, সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি অসাধু শিকারি চক্র বনে সক্রিয় রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে প্রভাবশালীদের সহায়তায় এসব চক্র নির্বিঘ্নে অবৈধ শিকার চালিয়ে যাচ্ছে। তারা দ্রুত এসব চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন