কোরবানির জন্য প্রস্তুত ৬১ হাজার পশু

যে কারণে এবার ঈদে লোকসানের শঙ্কায় খামারিরা

শেখ মান্নান, শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি

যে কারণে এবার ঈদে লোকসানের শঙ্কায় খামারিরা

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঝিনাইদহের শৈলকুপায় কোরবানির পশু পরিচর্যা করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। প্রাণী সম্পদ বিভাগ জানায়, এখানে রয়েছে গরুর প্রান্তিক খামারির সংখ্যা ১৩২ টি, হৃষ্টপুষ্ট করণ খামারির সংখ্যা ৭০টি, ছাগলের প্রান্তিক খামারির সংখ্যা ১৩৮ টি ও ভেড়ার প্রান্তিক খামারির সংখ্যা ০৩ টি সহ মোট প্রান্তিক খামারির সংখ্যা ৩৪৩টি। নিবন্ধনকৃত গরু খামারির সংখ্যা ১৩ টি, ছাগল ০১টি সহ মোট

নিবন্ধনকৃত খামারির সংখ্যা ১৪ টি। শৈলকুপায় নিবন্ধনকৃত ও অনিবন্ধনকৃত সর্বমোট খামারির সংখ্যা ৩৫৭ টি।

বিজ্ঞাপন

মূলত কোরবানির পশুর জোগান আসে প্রান্তিক এবং অনিবন্ধিত খামার থেকে। শৈলকুপায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৬১ হাজার ৬’শ ২টি পশু। এর মধ্যে ২৩ হাজার ০২ শত ২৯ টি গরু, ৩৩ হাজার ০৫ শত ০৬ টি ছাগল, চার হাজারের অধিক মহিষ এবং ৫ শতাধিক ভেড়া। শৈলকুপায় কোরবানির পশুর চাহিদা ছাগল, গরু, মহিষ ও ভেড়া মিলে প্রায় ৪৪ হাজার। উদ্বৃত্ত থাকবে প্রায় ১৭ হাজার পশু। উদ্বৃত্ত পশুগুলো জেলা ও জেলার বাইরে ঢাকা এবং চট্রগ্রামের পশু হাটে বিক্রয় করা হবে। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে শৈলকুপার কাঁচের কোল ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের খামারের কর্মচারী মো. মিজান জানান তাদের খামারের ২০০ টি মোটাতাজা গরু এবার ঢাকার পশু হাটে বিক্রি করা হবে। বাজার ভালো পেলে লাভের আশা করতে পারি। সাদেকপুর গ্রামের খামারি তোজাম্মেল হক বলেন খামারটা নতুন। খামার তৈরী এবং ৪৭ টি গরু কেনা ও লালন পালনে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। খামারিরা জানান গো খাদ্যের দাম বেশি , যেমনঃ ভুসি ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি, বিচালী প্রতি হাজার ৬ হাজার টাকা এবং রাখালের মজুরি অনেক বেশি। ফলে খামার ব্যবস্থাপনায় অনেক খরচ বেড়ে গেছে। ভালো দাম না পেলে লোকসানে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শৈলকুপা উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসার ডা. রাসেল আহমেদকে কোরবানির পশুর বাজার সম্পর্কে আমার দেশকে বলেন শৈলকুপাতে অনেক ভাল মানের গরু আছে এবং বাজারও ভাল। তবে গো খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় কৃষক ও খামারিদের কাঁচা ঘাস খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পশুর স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর স্টেরয়েড ও হরমোন জাতীয় ঔষধ ব্যবহার করে পশু মোটাতাজা করণ নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন অনেক খামারি পশু মোটাতাজা করণের জন্য পোট্রি ফিড খাওয়ান। যার ফলে পশুর পাকস্থলী ফুলে গিয়ে পশুর মৃত্যুও হতে পারে। ফিড খাওয়ানো গরুর মাংস খেলে মানব দেহের ক্ষতি হতে পারে। সার্বক্ষণিক পশুর স্বাস্থ্য রক্ষা মনিটরিং করছেন প্রাণী সম্পদ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ঈদুল আযহা উপলক্ষে এরই মধ্যে শৈলকুপায় পশু ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য দুটি হাটবার ক্রেতা বিক্রেতারা পেয়েছেন। গত ২৫মে (রবিবার ) ভাটই পশু হাটে ৪৯৩ টি গরু বিক্রি হয়েছে, যার বাজার মূল্য প্রায় ৯ কোটি টাকা। গত ২৭ মে (মঙ্গলবার) শৈলকুপা হাবিবপুর পশু হাটে ১৩৪২ টি গরু বিক্রি হয়েছে, যার বাজার মূল্য ২০ কোটি ১৩ লক্ষ টাকা। বাজারে ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। ক্রেতারা বলেছে পশুর দাম বেশি। আর বিক্রেতারা বলেছের বাজার কম, গরুতে এবার লোকশানের সম্ভবনা রয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...