কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার ১৬ দাগ গ্রামে বিয়ের প্রলোভনে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে জনি হোসেন ওরফে রাজিম (৩০) নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার দুপুরে কুষ্টিয়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জয়নাল আবেদীন আসামির অনুপস্থিতিতে এই রায় প্রদান করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত জনি হোসেন ভেড়ামারা উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের ১৬ দাগ পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাদশা মিয়ার ছেলে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে নিজেকে সেনাসদস্য পরিচয় দিয়ে জনি ওই তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি রাতে তরুণীর বাড়িতে বাবা-মায়ের অনুপস্থিতির সুযোগে জনি তাকে প্রথমবার ধর্ষণ করেন। এরপর বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের একপর্যায়ে ওই তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন।
বিষয়টি জানাজানি হলে জনিকে বিয়ের জন্য চাপ দেওয়া হয়। এ সময় জনি পদোন্নতি ও অফিসে ঘুষ দেওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছে ৮ লাখ টাকা দাবি করেন। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে ওই তরুণীর প্রবাসী বাবা দাবিকৃত টাকা প্রদান করেন। টাকা পাওয়ার পর জনি যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং ওই তরুণীকে ‘চরিত্রহীন’ অপবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেন।
পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ২ মার্চ ওই তরুণী একটি পুত্রসন্তান প্রসব করেন। কোনো উপায় না পেয়ে ২০২৩ সালের ২২ জুন তিনি কুষ্টিয়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় ভেড়ামারা থানার উপপুলিশ পরিদর্শক (এসআই) মিন্টু মিয়া ২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ জানান, তরুণীকে ধর্ষণ ও প্রতারণার অভিযোগ সাক্ষ্য-প্রমাণে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এই রায় দিয়েছেন। আসামি জনি ২০২৩ সালের ১৫ জুলাই গ্রেপ্তার হয়ে কারাবাস শেষে জামিনে বেরিয়ে বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

