ক্ষমতায় বসার পর বিএনপি ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেছেন: গোলাম পরওয়ার

খুলনা ব্যুরো

ক্ষমতায় বসার পর বিএনপি ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেছেন: গোলাম পরওয়ার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, নির্বাচনের আগে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীসহ বিএনপির শীর্ষ নেতারা যে জুলাই সনদ ও সংস্কার উদ্যোগের পক্ষে দেশব্যাপী ক্যাম্পেইন চালিয়েছিলেন, ক্ষমতায় আসার পর তারা সেই অবস্থান থেকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেছেন। এখন তারা গণভোট ও সংবিধান সংস্কার পরিষদকে বেআইনি ও সংবিধান পরিপন্থী বলে আখ্যায়িত করছেন যা জনগণের রায়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

খুলনায় শনিবার (২০ জুন) ১১ দলীয় জোটের বিভাগীয় মহাসমাবেশ সফল করার লক্ষে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবীর বালু মিলনায়তনে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি মন্তব্য করেন। প্রেস ব্রিফিংটি অনুষ্ঠিত হয় সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির উদ্যোগে।

বিজ্ঞাপন

পরওয়ার বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন কেবল জামায়াত-এনসিপি বা ১১ দলের দাবি নয়, বরং দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন, যারা গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিয়েছেন। তাঁর মতে, এটি সংসদেই সমাধানযোগ্য বিষয় হলেও সেটিকে উদ্দেশ্যমূলক-ভাবে রাজপথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কার না করে কেবল সীমিত সংশোধনকরার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা সীমিত করা, উচ্চকক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব চালু করা, বিচার বিভাগ ও সাংবিধানিক পদে নিরপেক্ষ নিয়োগ- এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাব থেকে বর্তমান রাজনৈতিক শক্তিগুলো সরে যাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, বিদ্যমান রাজনৈতিক কাঠামোতে মৌলিক সংস্কার না হলে ভবিষ্যতে যেই প্রধানমন্ত্রী হবেন, তিনি আবারও আরেকটি শেখ হাসিনা হয়ে উঠতে পারেন এবং দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করতে পারেন।

গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান হলেও নতুন সরকারে দলীয়করণের ধারা বন্ধ হয়নি। তাঁর ভাষায়, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনসহ বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নির্বাচনের পরিবর্তে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী।

প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, রাজনৈতিক সহিংসতা, চাঁদাবাজি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ চরম জনদুর্ভোগে রয়েছে, অথচ সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হচ্ছে। তিনি বিশেষভাবে খুলনার পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের আয়রন মার্কেটে দোকানপ্রতি ১০ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি করায় গত এক সপ্তাহে প্রায় ৭০টি দোকান বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া শিশু হত্যা, খণ্ডবিখণ্ড লাশ উদ্ধার, মসজিদের ভেতরে ঢুকে গুলি এবং ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা নিত্যদিনের বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি ২১ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর খুলনা সফরের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এখন আইনশৃঙ্খলার চেয়ে সংবিধান নিয়ে বেশি ব্যস্ত।

আগামী ২০ জুন খুলনা সার্কিট হাউস ময়দানে বিভাগীয় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে তিনি বলেন, দুপুর ২টায় শুরু হয়ে আসরের নামাজের আগেই অর্থাৎ বিকেল ৫টার মধ্যে সমাবেশ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা আল্লামা মামুনুল হক, নেজামে ইসলাম পার্টির আমীর মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সুবানী, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, জাগপা’র মুখপাত্র ও সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান, এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ, খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা আব্দুল বাসিত আজাদ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ড. মোস্তফা আজিজুর রহমান ইরান এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চান।

মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, খুলনা বিভাগের ৩৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৫টিতে বিরোধী দলীয় এমপিরা নির্বাচিত হয়েছেন এবং তারাও সমাবেশে অংশ নেবেন। সমাবেশ সফল করতে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। পোস্টার, লিফলেট, তোরণ ও মাইকিংয়ের পাশাপাশি শক্তিশালী স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ট্রাফিক ও পার্কিং ব্যবস্থার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সমাবেশস্থল ও শহরের বিভিন্ন স্থানে হর্নের মাধ্যমে বক্তব্য প্রচারের ব্যবস্থাও থাকবে, যাতে দূরবর্তী মানুষও শুনতে পারেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, স্থানীয় নেতাদের বক্তৃতা শেষে সার্কিট হাউস মাঠের নির্মাণাধীন মঞ্চ পরিদর্শন করেন জোট নেতারা। পরে তারা নগরীতে লিফলেট বিতরণ কার্যক্রমেও অংশ নেন।

এ সময় প্রেস ব্রিফিংয়ে সভাপতিত্ব করেন সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মোবারক হোসাইন এবং পরিচালনা করেন সদস্য সচিব ও খুলনা মহানগর জামায়াতের আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও খুলনা বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন