মাদকবিরোধী অবস্থান এবং এ-সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের জেরে খুলনার স্থানীয় দৈনিক প্রবাহের স্টাফ রিপোর্টার সাইফুল্লাহ তারেকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে তাকে না পেয়ে ১৬ বছর বয়সি ছেলেকে থানায় নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর ওই কিশোরকে প্রবেশন কর্মকর্তার মাধ্যমে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়।
গত সোমবার দুপুরে নগরীর গিলাতলা দক্ষিণপাড়ার বাসা থেকে পুলিশ ওই কিশোরকে থানায় নিয়ে যায় বলে জানিয়েছে তার পরিবার। সে গিলাতলার একটি মাদরাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। পাশাপাশি অন্য একটি মাদরাসার হেফজ বিভাগে পড়াশোনা করছে।
ওই কিশোরের মা সুমনা বেগম অভিযোগ করেন, পুলিশ বাড়িতে অভিযান চালানোর সময় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও গালাগালি করে। তার ছেলেকে থানায় নেওয়ার পর খানজাহান আলী থানার ওসি আবুল বাশার তার বাবাকে উদ্দেশ করে গালাগালি করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ওসির নির্দেশেই ছেলেকে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে দাবি তার।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওসি আবুল বাশার। তার দাবি, ওই কিশোর পুলিশের সরকারি কাজে বাধা এবং পুলিশকে গালাগালি করেছিল। এ কারণে তাকে থানায় আনা হয়। পরে জন্মসনদে বয়স ১৬ বছর প্রমাণ হলে প্রবেশন কর্মকর্তার জিম্মায় তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কিশোর কিংবা তার পরিবারের কাউকে মারধর বা গালাগালি করা হয়নি বলেও দাবি করেন ওসি।
সাংবাদিক সাইফুল্লাহ তারেক দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে আনা চাঁদাবাজির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি বলেন, কয়েক মাস ধরে তিনি ও এলাকার যুবসমাজ গিলাতলা দক্ষিণপাড়ার কথিত মাদক ব্যবসায়ী শাবানা ও তার ছেলে সাগরের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এলাকাবাসীর আন্দোলনের মুখে তারা এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
সাইফুল্লাহ তারেকের অভিযোগ, মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের কারণে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে থানার ওসির বিরোধ তৈরি হয়। এর জেরেই প্রতিহিংসাবশত তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করা হয়েছে।
তিনি আরো দাবি করেন, তার ছেলেকে বাড়ি থেকে থানায় নেওয়ার পরপরই শাবানা, তার ছেলে সাগরসহ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা এলাকায় ফিরে এসেছে। এতে তার পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
পরিবারটির অভিযোগ, মাদকবিরোধী অবস্থান নেওয়ার পর থেকেই তারা চাপ ও হয়রানির মধ্যে রয়েছে। অন্যদিকে পুলিশ বলছে, আইনগত কারণেই ওই কিশোরকে থানায় আনা হয়েছিল।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

