ইলিশের সঙ্গে সবজি হিসেবে শাপলার জুড়ি মেলা ভার। এক সময় গ্রামের মানুষের অন্যতম প্রিয় খাবার ছিল ইলিশ-শাপলা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইলিশের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় ইচ্ছা থাকলেও তা অনেকেরই সাধ্যের বাইরে ছিল।
রসনা বিলাসীরা অপেক্ষায় থাকেন—কখন কমবে ইলিশের দাম আর বাড়িতে রান্না হবে প্রিয় শাপলা-ইলিশ। বছরের এই সময়ে (সেপ্টেম্বর-অক্টোবর) সমুদ্রে ঝাঁকে ঝাঁকে রূপালি ইলিশ ধরা পড়ে। পাশাপাশি বাজারে খাল-বিল ও চাষকৃত মাছের সরবরাহ বাড়ায় ইলিশের দাম কিছুটা নাগালের মধ্যে চলে আসে। ফলে সাধারণ মানুষ ইলিশ কেনার পাশাপাশি বাজারে শাপলা কিনতেও ভিড় জমাচ্ছেন।
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে শাপলা বিক্রির ধুম পড়ে গেছে। পার্শ্ববর্তী গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা এখানে শাপলা এনে বিক্রি করছেন।
উপজেলার বাখরগঞ্জ বাজারে শাপলা বিক্রি করতে আসা সাইফুল শেখ জানান, তিনি বাগেরহাটের ফয়লা এলাকা থেকে পাইকারি দরে শাপলা কিনে এনে বাখরগঞ্জ ও দেপাড়াসহ বিভিন্ন হাটে বিক্রি করছেন। বাজারে বর্তমানে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে মাঝারি আকারের ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। ইলিশের দাম কিছুটা কম থাকায় শাপলার ব্যবসাও ভালো হচ্ছে বলে জানান তিনি।
গোপালগঞ্জ থেকে আসা শাপলা বিক্রেতা আনিসুল জানান, মিষ্টি পানির শাপলা খেতে বেশ সুস্বাদু। বিভিন্ন বিল থেকে সংগৃহীত এই শাপলা তারা ঢাকায় চালান করার পাশাপাশি আশপাশের জেলার হাট-বাজারগুলোতেও বিক্রি করেন। বর্তমানে প্রতি আঁটি শাপলা ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে এবং এর বেশ ভালো চাহিদা রয়েছে।
স্থানীয় রসনা বিলাসী বাবলু মণ্ডল বলেন, জাতীয় ফুল হিসেবে শাপলা যেমন সমাদৃত, তেমনি সবজি হিসেবেও এর জুড়ি নেই। এটি ছোট চিংড়ি দিয়ে ভাজি কিংবা ইলিশ মাছের সাথে রান্না করলে চমৎকার স্বাদ পাওয়া যায়। এক সময় স্থানীয় খাল-বিলে প্রচুর শাপলা ফুটত। তবে বর্তমানে এলাকায় ঘেরে চিংড়ি চাষ বেড়ে যাওয়ায় বাইরের জেলা থেকে শাপলা আনতে হচ্ছে। বাঙালির কাছে শাপলার কদর এখনো আগের মতোই রয়ে গেছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

