কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে চুরির অভিযোগ তুলে মিন্টু (২৬) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার দায়ে দুজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাদের (প্রত্যেককে) ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, দেলৗতপুর উপজেলার বেগুনবাড়ীয়া গ্রামের মাবুদ মন্ডলের ছেলে ফারুক হোসেন (৪৩) (পলাতক) ও একই গ্রামের মৃত আমজাদ মন্ডলের ছেলে আমিন উদ্দিন (৫৭)।
বৃহষ্পতিবার দুপুরে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতের বিচারক ফেরদেসৗ ওয়াহিদ এই রায় ঘোষণা করেন।
এসময় দণ্ডপ্রাপ্ত আমিন উদ্দিন কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। আরেক আসামি ফারুক হোসেন পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন আদালত।
বিকেলে আমার দেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলি অ্যাড. খন্দকার সিরাজুল ইসলাম।
তিনি জানান, দেলৗতপুর থানার মিন্টু হত্যা মামলায় দীর্ঘদিন স্বাক্ষ্য শুনানি শেষে ফারুক ও আমিন নামের দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এই মামলার এজাহার নামীয় ১৪ জনকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন আদালত।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিবেশী যুবক মিন্টুর বিরুদ্ধে পানির টিউবয়েলের হ্যান্ডেল চুরির অভিযোগ তোলে প্রতিপক্ষ। ২০০৯ সালের ৭ জানুয়ারি রাতে মিন্টু বাড়ি ফেরার পথে অভিযুক্ত প্রতিপেক্ষর লোকজন একজোট হয়ে মিন্টুকে টেনেহিছড়ে একটি ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে গিয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি মাথায় আঘাত করে। এসময় আসামিরা মিন্টুকে ঘটনাস্থলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আহত মিন্টুকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন তাকে। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় একদিন পরে মারা যান মিন্টু।
এ ঘটনায় নিহতের পিতা পরদিন ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে দেলৗতপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে দেলৗতপুর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আলমগীর কবীর ২০০৯ সালের ৫ মে দুজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

