জনগণের অধিকার আদায়, ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণ এবং সুনির্দিষ্ট সাত দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকা-খুলনা-যশোর-কুষ্টিয়া মহাসড়কে লংমার্চ করার ঘোষণা দিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। এই লংমার্চকে ঐতিহাসিক হিসেবে অভিহিত করে তা সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্নভাবে সফল করে তোলার জন্য সর্বস্তরের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার।
শুক্রবার নগরীর আল ফারুক সোসাইটি মিলনায়তনে ১১ দলীয় ঐক্য খুলনার উদ্যোগে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ আহ্বান জানান।
সভায় তিনি লংমার্চের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, জনতার এই শান্তিপূর্ণ লংমার্চ দেশের রাজনীতি ও অধিকার আদায়ের সংগ্রামে এক নতুন মাইলফলক হয়ে থাকবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন ও উপস্থিত ছিলেন—বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাস্টার শফিকুল আলম, এনসিপির খুলনা মহানগর আহ্বায়ক আহম্মদ হামীম রাহাত, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের খুলনা মহানগর সভাপতি মুফতি শরীফ সাঈদুর রহমান, লেবার পার্টির মহানগর সভাপতি অধ্যক্ষ মো. সাইফুদ্দোহা, বিডিপির মহানগর সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. হানিফ উদ্দীন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের খুলনা জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শহিদুল ইসলাম, লেবার পার্টির মহানগর সাধারণ সম্পাদক সোহেল হাওলাদার, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি) খুলনা মহানগর সেক্রেটারি মো. আবু বকর মোড়ল, মহানগরী জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শাহ আলম ও প্রিন্সিপাল শেখ জাহাঙ্গীর আলম এবং প্রচার সম্পাদক মুহাম্মাদ আব্দুল গফুর, খেলাফত আন্দোলন খুলনা মহানগর মুখপাত্র মো. সাকিব বিল্লাহ, খুলনা মহানগর জাগপা মুখপাত্র মাহমুদ হাসান, এবি পার্টির মনিরুল ইসলাম প্রমুখ।
সভা শেষে নেতৃবৃন্দ ১১ দলীয় ঐক্য খুলনা আয়োজিত পথসভার স্থান বাবরী চত্বর (শিববাড়ি মোড়) পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা পথসভার সম্ভাব্য মঞ্চ এবং জনদুর্ভোগ কমাতে লংমার্চের গাড়িবহরের রুট নির্ধারণ করেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আমাদের উত্থাপিত সাত দফা দাবি আজ দেশের কোটি কোটি মানুষের প্রাণের দাবি। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন; জুলাই গণহত্যার বিচার; বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন; নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন; দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি রোধ এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ—একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এই দাবিগুলোর কোনো বিকল্প নেই। দেশের মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। আজকের এই প্রেক্ষাপটে ১১ দলীয় ঐক্যের এই লংমার্চ জনবিচ্ছিন্ন শক্তির বিরুদ্ধে জনমতের এক শক্তিশালী বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের এই আন্দোলন সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ ও অহিংস। অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে আজ জনগণের ঐক্য অনেক বেশি সুদৃঢ়। ৩১ অক্টোবরের এই লংমার্চে ঢাকা থেকে শুরু করে খুলনা, যশোর ও কুষ্টিয়ার প্রতিটি পয়েন্টে লাখ লাখ জনতা যুক্ত হবেন। এই লংমার্চের যাত্রাপথকে নিরাপদ ও জনদুর্ভোগমুক্ত রাখতে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মী এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। কোনো ধরনের উসকানি বা বিশৃঙ্খলার ফাঁদে পা না দিয়ে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে আমাদের এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, ১১ দলীয় ঐক্যের এই খুলনামুখী লংমার্চ ঢাকার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটের উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে শুরু হবে। আগামী ৩১ অক্টোবর সকাল ৭টায় সেখানে উদ্বোধনী সমাবেশ শেষে লংমার্চ খুলনার উদ্দেশে রওনা হবে। বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা এই লংমার্চে নেতৃত্ব দেবেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

