খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি) সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকার একটি মেসে নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. আজমুল হোসেনকে মারধরের পর মৃত্যুর ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীকে এজাহারভুক্ত আসামি করার পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরো ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার রাতে আজমুলের বাবা কুতুবউদ্দিন নগরের হরিণটানা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। দণ্ডবিধির ৩০২ (হত্যা) ও ৩৪ (পরস্পর যোগসাজশ) ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হলের (খাজা হল) বিপরীতে ইসলামনগর সড়কের মসজিদ গলির একটি মেস ভবনে চুরির অভিযোগ তুলে আজমুল হোসেনকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাকে ভবনের চারতলার ছাদে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে নিচে পড়ে গিয়ে তিনি গুরুতর আহত হন। মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে আজমুল মেসে মিল না দিয়েও খাবার খেয়েছিলেন। এ নিয়ে মেসের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে তার বাগ্বিতণ্ডা ও বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ তুলে মেসের কয়েকজন শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা তাকে মারধর করেন এবং চারতলার ছাদে নিয়ে নির্যাতন চালান।
ঘটনাস্থলে নির্যাতন ও চড়-থাপ্পড়ের পাশাপাশি আজমুলের মাথার চুল একপাশ দিয়ে কেটে দেওয়ার আলামতও পাওয়া গেছে। এরপর তিনি ভবনের নিচে পড়ে মারাত্মক আহত হন। রাত দেড়টার দিকে কয়েকজন যুবক তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, আজমুলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন ছিল। হাসপাতালে আনার কিছুক্ষণ পরই তার মৃত্যু হয়। প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
নিহত আজমুল হোসেন নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার বড় শলুয়া গ্রামে। তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মসজিদ গলির ওই মেসে ভাড়া থাকতেন।
এদিকে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার সময় আজমুলকে আটকে রেখে তার পরিবারের কাছে ফোন করে চুরির ক্ষতিপূরণ বাবদ ১ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল। টাকা চাওয়ার পরপরই ফোন নম্বরটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে পুলিশ জানিয়েছে, এই অভিযোগের সত্যতা গভীরভাবে যাচাই করা হচ্ছে।
পুলিশ আরো জানায়, আজমুলকে কীভাবে মারধর করা হয়েছিল, মারধরের পর তাকে ছাদ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছিল নাকি অন্য কোনোভাবে তিনি নিচে পড়ে গিয়েছিলেন—এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও উদ্ধারকৃত আলামত বিশ্লেষণের পর মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন সম্ভব হবে।
হরিণটানা থানার ওসি মো. ইকবাল হোসেন বলেন, মামলায় চারজন এজাহারনামীয় আসামির সবাই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এছাড়া আরও ২০-২৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। পুরো ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আগের বিরোধের কথা উল্লেখ করে ওসি আরো বলেন, মেসের মধ্যে তাদের মধ্যে আগে থেকেই ঝামেলা চলছিল বলে আমরা জানতে পেরেছি। অন্যের পোশাক ব্যবহারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ ছিল।
শনিবার রাত পর্যন্ত এ ঘটনায় এজাহারভুক্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তবে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

