বাস্তব অভিজ্ঞতা নিতে রাস্তা মেরামতের কাজে শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা

বাস্তব অভিজ্ঞতা নিতে রাস্তা মেরামতের কাজে শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা

বাস্তব অভিজ্ঞতা নিতে সরাসরি রাস্তা মেরামতের কাজে অংশ নিয়েছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং (সিইই) বিভাগের শিক্ষার্থীরা। আউটকাম বেইজড এডুকেশন (ওবিই) কারিকুলামের অংশ হিসেবে একটি ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের আওতায় তারা এ কাজে অংশ নেন। এতে হাতে-কলমে প্রকৌশল শিক্ষা আরো কার্যকর হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত দেড় বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছে। এ কারণে ক্যাম্পাসে ভারী যানবাহনের চলাচল বেড়েছে। এতে অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত চলাচলে ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

এ ভোগান্তি কমাতে এবং একাডেমিক প্রজেক্টের অংশ হিসেবে ক্যাম্পাসের রাস্তা মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সিইই বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক শাহিদুর রহমানকে। তার তত্ত্বাবধানে বিভাগের ২৫ শিক্ষার্থী কাজ করছেন। তাদের সঙ্গে রয়েছেন ১০ শ্রমিক।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রকল্পের আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনের অংশে ২২ মিটার আরসিসি ঢালাই দেওয়া হয়েছে। ওই অংশে যানবাহনের চাপ বেশি থাকায় এটি করা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রধান ফটক থেকে গোলচত্বর হয়ে শাহপরাণ হলের গেট পর্যন্ত রাস্তা মেরামত করা হচ্ছে। সেখান থেকে সৈয়দ মুজতবা আলী হল পর্যন্তও কাজ চলছে। পাশাপাশি গোলচত্বর থেকে ফাতেমাতুজ জাহরা হল পর্যন্ত সড়কও মেরামত করা হবে।

সব মিলিয়ে প্রায় দুই হাজার ২৮৩ মিটার রাস্তা মেরামতের আওতায় রয়েছে। এসব কাজে উপকরণ হিসেবে রাবিশ, অর্থাৎ ভাঙা ইট, বালু ও সিমেন্টের গ্রাউটিং ব্যবহার করা হচ্ছে।

প্রকল্পের প্রধান অধ্যাপক শাহিদুর রহমান জানান, যন্ত্রপাতি কেনা, শ্রমিকের বেতন ও আনুষঙ্গিক খরচের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মোট ৯ লাখ ২২ হাজার টাকা বাজেট দিয়েছে।

এ প্রকল্পে শিক্ষার্থীরা শুধু শ্রমিকদের সঙ্গে কাজ করছেন না, তারা নিজেদের একাডেমিক জ্ঞানও কাজে লাগাচ্ছেন। রাস্তার ক্ষতির ধরন শনাক্ত করছেন। এরপর নির্ধারণ করছেন কোথায় কী ধরনের উপকরণ ব্যবহার করতে হবে। কীভাবে কাজ করলে রাস্তা টেকসই হবে, সেটিও তারা হাতে-কলমে শিখছেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, প্রকল্পটির মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষের পড়াশোনার সঙ্গে বাস্তব কাজের মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য এটি প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করবে বলেও তারা মনে করছেন।

সিইই বিভাগের শিক্ষার্থী নাদির-উজ্জামান বলেন, ছয়-সাত বছরের তথ্য যদি দেখেন, তাহলে দেখবেন হাতে-কলমে কোনো কাজে শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেননি। প্রশাসনের এমন উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা বাস্তবে কাজের অভিজ্ঞতা নিতে পারছি। রাস্তার কোন অংশে কী সমস্যা হয়েছে এবং সেখানে কোন উপকরণ ব্যবহার করা উচিতÑতা সরাসরি দেখতে পারছি।

তিনি বলেন, এতে আমাদের কাজ শেখার পাশাপাশি সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতাও বাড়ছে। একজন প্রকৌশলী হিসেবে ভবিষ্যতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে এমন অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এ কাজের মাধ্যমে নিজেদেরও আত্মবিশ্বাস বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক শাহিদুর রহমান। তিনি বলেন, এর ফলে এখন আমি এরচেয়ে বড় কাজ করতে মনোবল পাব। উপাচার্য যখন আমাকে কাজটি করার জন্য বললেন, স্বাচ্ছন্দ্যে আমার শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজটি করার আগ্রহ প্রকাশ করেছি।

তিনি জানান, প্রকল্পটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘শেখার ফলাফল থেকে প্রকৌশলচর্চা : শাবিপ্রবিতে সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও ট্রাফিক নিরাপত্তায় ওবিই-ভিত্তিক সিভিল ও এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্টার্নশিপ’।

অধ্যাপক শাহিদুর রহমান বলেন, এ কাজকে ইন্টার্নশিপ ধরে সবাইকে একটি সনদ প্রদান করা হবে। এই ইন্টার্নশিপের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শেখার সুযোগ তৈরি করা। একইসঙ্গে ক্যাম্পাসের ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাগুলো মেরামত করা।

তিনি আরো বলেন, এ কাজের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের বিদেশ যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম বলেন, শাবিপ্রবিতে প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থীদের ওবিই কারিকুলামের অংশ হিসেবে সরাসরি কাজের সুযোগ করে দিতে পেরেছি। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের একটি ইন্টার্নশিপের সুযোগও তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, এর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাদের সনদ দেওয়া হবে। পাশাপাশি এর মাধ্যমে কম খরচে রাস্তা মেরামত করা যাচ্ছে। এই রাস্তা মেরামতের অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সম্পাদনা: মাসুম বিল্লাহ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন