খুলনায় মাদক মামলায় আটক দুই ব্যক্তিকে ছাড়িয়ে নিতে থানায় গিয়ে পুলিশের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে শ্রমিকদলের এক নেতা ও তার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তারা মদ্যপ অবস্থায় ছিল বলে জানিয়েছে সোনাডাঙ্গা মডেল থানা পুলিশ। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অভিযুক্ত শ্রমিকদল নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত শনিবার রাতে মাদকবিরোধী অভিযানে দুজনকে আটক করে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ। আটকরা হলেন- বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জের কালিকাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা পারভেজ শেখ এবং নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লক্ষ্মীপাশা গ্রামের বাসিন্দা মো. আব্দুল্লাহ। বর্তমানে তারা দুজনই খুলনা মহানগরের আলীর ক্লাব বড়বাড়ি এলাকায় বসবাস করেন।
পুলিশের দাবি, রাত পৌনে ১টায় আটক ব্যক্তিদের ছাড়িয়ে নিতে খুলনা মহানগরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সেক্রেটারি মোস্তফা শেখ দুলাল তার সহযোগী মো. শরিফুল ইসলাম ও আরো কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় যান। তারা আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করলে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা বাধা দেন।
এরপর দুলাল শেখ থানায় কর্মরত এসআই নাদিম মাহমুদের সঙ্গে কথা বলে আটক ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। তবে এসআই তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মাদক মামলায় আদালতে পাঠানো হবে বলে জানালে দুলাল শেখ ও শরিফুল ইসলাম কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের গালিগালাজ ও অসদাচরণ করেন। পরে পুলিশ তাদের দুজনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের মদ্যপ অবস্থায় পাওয়া গেলে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন।
সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, শ্রমিক দলের নেতা পরিচয়ে দুই ব্যক্তি থানায় এসে মাদক মামলার আটক ব্যক্তিদের ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তারা মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন এবং কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে শ্রমিক দল খুলনা মহানগর শাখার সভাপতি মুজিবুর রহমান বলেন, আমি সাংগঠনিক কাজে ঢাকায় অবস্থান করছি। এ খবর পাওয়ামাত্র সেক্রেটারিকে বলেছি অভিযুক্তকে বহিষ্কার করে চিঠি ইস্যু করতে। তিনি বলেন, দলের চেয়ারম্যানের কঠোর নির্দেশ আছে, অপরাধের সঙ্গে জড়িত কেউ ছাড় পাবে না।
এএস
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

