মহেশপুর পৌরসভায় ৪২ কোটি টাকার নগর সুশাসন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম হওয়ায় বিলে স্বাক্ষর দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় উপসহকারী প্রকৌশলীর দপ্তরে বৃহস্পতিবার তালা লাগিয়ে দিয়েছেন খোদ নির্বাহী প্রকৌশলী। এই নির্বাহী প্রকৌশলী সোহেল রানার বিরুদ্ধে টেন্ডার শিডিউল অমান্য করে নিম্নমানের কাজ করা ঠিকাদারদের বিল পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে উপসহকারী প্রকৌশলীর কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার পর অফিস সময় শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা খোলা হয়নি। ফলে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বারান্দায় দাঁড়িয়ে থেকে শেষে কর্মস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন ভুক্তভোগী উপসহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে মহেশপুর পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিষয়টি বর্তমানে ‘টক অব দ্য টাউনে‘ পরিণত হয়েছে।
এক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ৪২ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের আওতায় আরসিসি ড্রেন নির্মাণ, রাস্তা কার্পেটিং ও বাজারের রাস্তা আরসিসিকরণের কাজ চলমান রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রত্যক্ষ ইন্ধনে ঠিকাদাররা অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে বিল তুলে নিচ্ছেন। প্রতিটি বিল ছাড়ানোর জন্য নির্বাহী প্রকৌশলী ২% হারে কমিশন বা ঘুষ নিচ্ছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় আরসিসি ড্রেন নির্মাণে বরাদ্দের চেয়ে অনেক কম লোহার রড ব্যবহার করা হয়েছে।
এছাড়া টিআর প্রকল্পের আওতায় তিনটি ডাস্টবিন নির্মাণের কথা থাকলেও মাত্র একটি নির্মাণ করে পুরো টাকা উত্তোলন করে নেওয়া হয়েছে। বাজারদরে পাওয়া যায় মাত্র ৫ হাজার টাকার হ্যালোজেন বাতির ক্রয় দেখানো হয়েছে ২০ হাজার টাকা। শহরজুড়ে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা লাগানোর কথা থাকলেও বসানো হয়েছে মাত্র ৫-৬টি এবং সচেতনতামূলক কোনো বিলবোর্ডও স্থাপন করা হয়নি।
অথচ ৩০ জুনের আগেই টিআর প্রকল্পের সমুদয় টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জলবায়ু প্রকল্পের আওতায় পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় সোলার বাতি স্থাপনের নামে ৬ কোটি টাকারও বেশি অর্থ লোপাট হয়েছে। সেখানে অত্যন্ত কম মূল্যের নিম্নমানের সোলার প্যানেল বসিয়ে চড়া মূল্যে বিল পাস করানো হয়েছে।
এছাড়া পৌরসভার সামনের একটি সড়ক ও বাজারের টেন্ডার হওয়া রাস্তা একাধিকবার মেরামত দেখিয়ে ভুয়া বিলের মাধ্যমে প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি চক্র। পাকা ভবন নির্মাণের নকশা যাচাইয়ের জন্য কোনো কনসালটেন্ট ফার্মের তোয়াক্কা না করে, পৌরসভার নকশাকারকে দিয়ে অবৈধ সিল-স্বাক্ষর করিয়ে লাখ লাখ টাকা পকেটে ভরছেন সংশ্লিষ্টরা। এসব ভুয়া মেমো, ভাউচার ও দুর্নীতির বিলে উপসহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষর করতে রাজি না হওয়াতেই ক্ষিপ্ত হয়ে তার কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন পৌরসভার খোরদ নির্বাহী প্রকৌশলী নিজেই।
কক্ষে তালা লাগানোর বিষয়ে জানতে চাইলে মহেশপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী সোহেল রানা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তবে মহেশপুর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাজ্জাদ হোসেন জানিয়েছেন, সরকারি অফিসে তালা লাগানোর বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। উপসহকারী প্রকৌশলীর রুমে তালা লাগানোর বিষয়ে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে এবং দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয়ে লিখিত পত্রের মাধ্যমে অবগত করা হবে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপপরিচালক রথীন্দ্রনাথ রায় জানান, মহেশপুর পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলীর কক্ষে তালা দেওয়ার ঘটনায় পৌরসভার প্রশাসকের কাছে পুরো ঘটনার বিস্তারিত প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

