আজ শনিবার বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। এ দিবসকে কেন্দ্র করে ফুলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের প্রভাবে যশোরের ঝিকরগাছার ফুলের রাজধানী খ্যাত গদখালী ফুলবাজারে ফুলের মূল্যে ধস নেমেছে। গতকাল শুক্রবার সকালে গদখালী ফুলের বাজার সরেজমিন ঘুরে এমনটাই দেখা গেল। গত বছর এ দিবসকে ঘিরে প্রায় ১৫ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হলেও এ বছর ৫ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সরেজমিন শুক্রবার সকালে গদখালীর ফুলবাজারে ফুলচাষিদের প্রচুর ভিড় লক্ষ করা গেছে। তবে ক্রেতা না থাকায় ফুলের বাজারমূল্যে ধস নেমেছে বলে জানালেন ফুলচাষি মহসিন আলী।
সৈয়দপাড়া গ্রামের খলিলুর রহমান জানান, আমি গোলাপ প্রতি পিস ৭-৮ টাকা, গ্লাডিওলাস প্রতি পিস ৬-১২ টাকা দরে বিক্রি করেছি। অথচ এক সপ্তাহ আগেও এর দাম দ্বিগুণ ছিল। এবার ফুলচাষিরা ফুলের দাম না পেয়ে বেজার হয়েছেন। এছাড়া গতকাল শুক্রবার বাজার ঘুরে দেখা যায় রজনীগন্ধা ফুল প্রতি পিস ৩-৫ টাকা, জারবেরা ৬-৮ টাকা, গাঁদা ফুল প্রতি হাজার ২০০-৩০০ টাকা, জিপসী প্রতি আটি ৪০-৫০ টাকা, চন্দ্রমল্লিকা একশ পিস ১৫০-২৫০ টাকা দামে বিক্রি হয়েছে। ফুলের মূল্য অর্ধেকে নেমে এসেছে।
ফুলচাষি পানিসারা গ্রামের তবিবর জানান, ১২ কাঠা জমিতে গোলাপ ফুল চাষ করেছি। সংসদ নির্বাচনের কারণে এবার ফুলের পাইকারি ক্রেতারা বাজারে না আসায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গাড়ি বন্ধ ছিল, এজন্য তারা আসতে পারেনি। কম দামে ফুল বিক্রি করতে বাধ্য হলাম।
হাড়িয়া গ্রামের ফুলচাষি শরিফ জানান, মোবাইল ব্যাংকিং চালু না থাকায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। ঝিকরগাছার আশপাশের এলাকাগুলোতে আমরা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে রিকশা বা ভ্যানে করে ফুল পৌঁছে দিয়ে থাকি।
ঝিকরগাছা ফুলচাষি কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর জানান, জাতীয় নির্বাচনের কারণে ফুলবাজারে ধস নেমেছে। ফুলের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন চাষিরা।
যশোর জেলা ফুল উৎপাদক ও বিপণন সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম জানান, গত বছর বিশ্ব ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হয়েছিল। এ বছর জাতীয় নির্বাচন এবং রোজার কারণে প্রায় ৫ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঝিকরগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূরুল ইসলাম জানান, ঝিকরগাছা উপজেলায় ৬২৮ হেক্টর জমিতে ফুল চাষ হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

