কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ছত্রগাছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে মুখে টেপ লাগানো ও অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেছে এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার সময় এলাকাবাসী জোর করে ওই বিদ্যালয়ে ঢুকে তৃতীয় তলার একটি কক্ষে শিক্ষার্থীকে খুঁজে পায়। পরে জরুরি সেবা ৯৯৯ কল দিয়ে পুলিশকে জানানো হয়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই বিদ্যালয়ের দপ্তরি ও নৈশ্যপ্রহরীকে থানা হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার ওই বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান ছিল। সকালে বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ে যায় ওই শিক্ষার্থী। সন্ধ্যা হয়ে গেলেও সে বাড়িতে না ফিরলে পরিবারের লোকজন তাকে স্কুলে খুঁজতে যায়। রাত ৮টার দিকে বিদ্যালয়ের পিয়ন হামিদুল ইসলামের কাছে মেয়েকে দেখেছেন কি না জানতে চান পরিবারের সদস্যরা।
সেই সঙ্গে মেয়েটি স্কুলে আটকা পড়েছে কি না, দেখতে চান। এ সময় বিদ্যালয়ের পিয়ন জানান, ভেতরে কেউ নেই। তিনি পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের বিদ্যালয়ে প্রবেশে বাধা দেন। পরে স্থানীয়রা জোর করে বিদ্যালয়ে ঢোকে এবং তৃতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে। প্রথমে তাকে উদ্ধার করে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান স্বজনেরা। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মেয়েটিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন চিকিৎসকেরা।
শুক্রবার রাতে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক/উপপরিচালক ডা. আবদুল মন্নান আমার দেশকে জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে (রেফার্ডকৃত ১০ বছর বয়সি) এক মেয়েকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
মেয়েটির শরীরের কয়েক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। বর্তমানে গাইনি ওয়ার্ডে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে সে। মেয়েটি ধর্ষণের শিকার হয়েছে কি না— এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সকালে হাসপাতালের গাইনি বিভাগের চিকিৎসক মেয়েটিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং নমুনা সংগ্রহ করেছেন। সেটার (নমুনা) রিপোর্ট পাওয়ার পর নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।
এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে মিরপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, ওই ছাত্রীর বিষয়টি খুবই গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। মেডিকেল রিপোর্ট পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই বিদ্যালয়ের দপ্তরি ও নৈশ্যপ্রহরীকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

