ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী-শিক্ষকরা, তদন্তে প্রশাসন

মোংলায় স্কুল মাঠে রাতের আঁধারে মাটি কেটে ড্রেন, প্রতিকার দাবি এলাকাবাসীর

মোংলায় স্কুল মাঠে রাতের আঁধারে মাটি কেটে ড্রেন, প্রতিকার দাবি এলাকাবাসীর
ছবি: আমার দেশ

বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের বুড়বুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বুড়বুড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন খেলার মাঠে রাতের আঁধারে মাটি কেটে ড্রেন তৈরির অভিযোগ উঠেছে।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি বা অবগত না করেই মাঠের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত করে মাটি কাটার ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষক, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও স্থানীয়রা।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী একটি মহলের সম্পৃক্ততায় বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের মাটি কেটে পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন তৈরি করা হয়েছে। এতে মাঠের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে মাঠে তৈরি হওয়া বড় বড় গর্ত শিশুদের জন্য দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি করেছে।

তবে মাটি কাটার কাজ করা লাভলী মজুমদারের দাবি, তার বাড়িঘর ও গাছপালা বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশনের জন্য মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ধীরেন্দ্র নাথ মৃধার সঙ্গে কথা বলেই তিনি পাইপের ব্যবস্থা করে কাজ শুরু করেছিলেন। এ জন্য নিজের ২০ হাজার টাকা খরচ করে পাইপ কেনার দাবিও করেছেন তিনি।

অন্যদিকে প্রধান শিক্ষক ধীরেন্দ্র নাথ মৃধা মাটি কাটার অনুমতি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, মাঠের ভেতর দিয়ে এভাবে ড্রেন কাটার অনুমতি তিনি দেননি। কাজ শুরু হওয়ার পর বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ম্যানেজিং কমিটিকে অবহিত করে কাজ বন্ধ করে দেন।

ঘটনাটি নিয়ে এখন এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে অনুমতি ছাড়া মাটি কাটার ঘটনা তদন্ত করে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করতে হবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয় বন্ধ থাকার সুযোগে রাতের আঁধারে মাঠের বিভিন্ন অংশে মাটি কেটে ড্রেন তৈরি করা হয়েছে। এতে মাঠের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

এভাবে মাটি কাটার কারণে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি মাঠে বড় গর্ত থাকায় তাদের নিরাপত্তা নিয়েও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত খেলার মাঠে কার অনুমতিতে মাটি কাটা হলো, আর কেনই বা রাতের আঁধারে এ কাজ করা হলো?

স্থানীয় বাসিন্দা পুলক মন্ডল বলেন, বুড়বুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হাইস্কুল মাঠে যারা মাটি কেটেছেন, তাদের বিচার চাই। মাটি যেভাবে খনন করা হচ্ছে, এতে বাচ্চাদের খেলাধুলা বন্ধ হয়ে যাবে। আমি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হোক। স্থানীয় বিএনপি ও ইউনিয়ন বিএনপির নেতারাও বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখবেন এটাই আমাদের কামনা।

বুড়বুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নাজমুল বাদশা বলেন, আমি আজকে যখন স্কুলে আসি, আসার পর দেখি স্কুলের যে খেলার মাঠ রয়েছে, সেটিতে অনেক বড় বড় গর্ত করা হয়েছে। কিছু দুর্বৃত্ত শুক্র ও শনিবার স্কুল বন্ধ থাকার সুযোগে মাটি কেটে মাঠের পরিবেশ নষ্ট করছেন। স্কুল ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষকদের অবহিত না করে বড় বড় গর্ত করে খাল কেটে এখান থেকে মাটি নেওয়া হয়েছে।

বুড়বুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জুলেখা খানম বলেন, সকালে স্কুলে এসে দেখি খেলার মাঠটি খনন করা হয়েছে। আমি কিছুই জানি না। আমার কাছ থেকে কেউ কোনো অনুমতি নেয়নি। আমি ইউএনও মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি কারা কাজটি করেছে, তাদের আইনের আওতায় আনা হোক।

মাটি কাটার কাজ করেছেন বলে অভিযোগ ওঠা লাভলী মজুমদার বলেন, আমি জলে তলিয়ে যাই। আমার বাড়িঘর, আমার গাছপালাসহ বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। তখন আমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে বলি এবং আমার দেবর সুব্রত মজুমদারকে বলি। তিনি প্রধান শিক্ষককে বলেন, আমাদের বাড়ি তলিয়ে যাচ্ছে, আপনার মাঠের ভিতর থেকে একটা পাইপ দিব খালে।

তিনি বলেন, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমাদের দিতে বলছেন। তখন আমি ২০ হাজার টাকা খরচ করে পাইপ এনেছি। পাইপ আনার পরে দুই দিন কাজ করি। আমার কাজের শেষ মুহূর্তে প্রধান শিক্ষক আমার লোকজনকে বলেছেন, কাজ করা যাবে না।এদিকে বুড়বুড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ধীরেন্দ্র নাথ মৃধা মাটি কাটার অনুমতি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘যারা বলছেন আমি অনুমতি দিয়েছি, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।’

মোংলা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পিন্টু রঞ্জন দাস বলেন, প্রথমত এটা আপনাদের কাছ থেকে শুনলাম। অন্য কোনো সোর্স থেকে আমি তথ্য পাইনি। আপনাদের কাছে যে ভিডিও ও ডকুমেন্ট দেখলাম, তাতে আসলে এভাবে কাজটি হওয়ার কথা নয়। তারপর আমি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে জানতে চেয়েছি। তিনি বিষয়টি জানেন না।

এ বিষয়ে মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমি বলেন, ‘বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে মাটি কাটার অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন