বাগেরহাটে নিখোঁজ কৃষকের লাশ মিলল নদীতে

বাগেরহাটে নিখোঁজ কৃষকের লাশ মিলল নদীতে

বাগেরহাট সদর উপজেলার অর্জুনবাহার এলাকার দড়াটানা নদীর পাড় থেকে আজমির শেখ (৪৭) নামে এক কৃষকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার স্থানীয়রা নদীর পাড়ে একটি লাশ দেখতে পেয়ে ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে পুলিশকে জানায়।

012

বিজ্ঞাপন

পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লাশ উদ্ধার করে। পরে নিহতের ছেলে ওমর ফারুক ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়ে তার পিতার লাশ হিসাবে শনাক্ত করেন। লাশ ময়না তদন্তের জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ।

নিহত আজমির শেখ সদর উপজেলার ডেমা ইউনিয়নের বড় বাঁশবাড়িয়া এলাকার আবুল হাশেমের ছেলে। তার শরীরে, ঘাড়ে বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন ও কান থেকে রক্ত বের হওয়ার চিহ্ন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে সন্ত্রাসীরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে নদীতে ফেলে দিয়েছে। ঘটনাস্থলে সদর থানা পুলিশ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও নৌ পুলিশ উপস্থিত হয়।

স্থানীয়রা জানান, গত মঙ্গলবার আজমির শেখ বড় বাঁশবাড়িয়া এলাকার স্থানীয় আশিকের মাছের ঘেরের বাসায় বসে তাস খেলছিল। এক পর্যায়ে পুলিশ আসলে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে এ সময় প্রশাসন স্থানীয় মধু শরীফকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।

এলাকাবাসী আরো জানান, মূলত মধু শরীফের ভাই খোরশেদ শরীফকে হত্যার উদ্দেশ্যে আসছিল সন্ত্রাসীরা। কিন্তু ভুলক্রমে আজমীর শরীফকে অতর্কিত হামলা করে তাকে নদীতে ফেলে দেয়। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

নিহত আজমির শেখের ছেলে ওমর ফারুক বলেন, আমার বাবা কোনো রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিল না, কারো সাথে কোন শত্রুতাও ছিল না। আমরা তিন ভাইয়ের মধ্যে দু’ভাই ঢাকায় চাকরি করি, মা প্রবাসী।

তিনি মঙ্গলবার বাঁশবাড়ি এলাকায় তাস খেলতে আসছিল। কিন্তু সন্ত্রাসীরা কি কারণে আমার পিতাকে হত্যা করেছে তার সঠিক কারণ জানতে পারছি না। ঘটনার সঠিক তদন্ত করে পিতা হত্যার বিচার দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে খোরশেদ শরীফের স্ত্রী হালিমা বেগম বলেন, মঙ্গলবার রাতে পুলিশ আমাদের বাড়িতে আসে। আমার দেবর মধু শরীফকে আটক করে নিয়ে যায়।

এ সময় স্থানীয় কামরুল, ইদ্রিস তালুকদার, রুবেল, জাহিদ, সগীর, মারুফসহ ২০ থেকে ২৫ জন সন্ত্রাসী তাদের সাথে ছিল। সন্ত্রাসীরা আমার পেটের উপর লাথি মারে ও হুমকি দিয়ে বলে তোর স্বামীকে মেরে নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছি।

মধু শরীফ ও খোরশেদ শরীফের মা হালিমা বেগম বলেন, আমার প্রতিবন্ধী ছেলে মধু শরীফকে পুলিশ বিনা কারণে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে। আবার ছেলে খোরশেদ শরীফকে তারা হত্যা করতে চেয়েছিল কিন্তু আজমির শেখকে হত্যা করে পানিতে ফেলে দিয়েছে। তিনি ছেলেদের জীবনের নিরাপত্তা ও হত্যাকারীদের শাস্তি দাবি করছি।

এ বিষয়ে বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ উল হাসান বলেন, ৯৯৯ এ ফোন পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। প্রশাসন নমুনা সংগ্রহ করেছে। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন লক্ষ করা গেছে। পরবর্তী আইনগত অবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানান তিনি।

এমএস

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন