নেত্রকোনার মদনে চুক্তি অনুযায়ী হাঁসের বাচ্চা না পাওয়ার প্রতিবাদ করায় এক ক্রেতাকে মোটরসাইকেল থেকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে চেম্বারে নিয়ে লাঞ্ছিত ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগ উঠেছে একটি হ্যাচারির মালিকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। গত মঙ্গলবার উপজেলার কুটুরীকোনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ক্রেতা শেখ মোহাম্মদ আজিজুর রহমান।
এ ঘটনায় আজ বুধবার তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ইউএনও এম. এ. কাদের।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সিলেট সিটি করপোরেশনের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের যুগিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শেখ মোহাম্মদ আজিজুর রহমানের সঙ্গে মদন উপজেলার কুটুরীকোনা গ্রামের বিসমিল্লাহ্ হাঁসের খামার অ্যান্ড হ্যাচারির মালিক আলী হোসেনের মোবাইল ফোনে ১৫ দিন বয়সী হাঁসের বাচ্চা কেনার চুক্তি হয়। প্রতি বাচ্চা ৭০ টাকা দরে ২ হাজার ২০০টি বাচ্চার মোট মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৫৪ হাজার টাকা।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, চুক্তির সময় তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছিলেন, ১৫ দিন বয়সী বাচ্চা হলেই কেবল কিনবেন। সেই শর্তে সম্মত হয়ে হ্যাচারি মালিক তাকে বাচ্চা দেখতে ডাকেন। কিন্তু মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে তিনি দেখতে পান, বাচ্চাগুলোর বয়স ১৫ দিন নয়, বরং আনুমানিক ৬ থেকে ৭ দিন। অন্য হ্যাচারির ১০ দিন বয়সী বাচ্চার তুলনায়ও সেগুলো আকারে ছোট ছিল বলে দাবি তার।
এ অবস্থায় বাচ্চা নিতে অস্বীকৃতি জানালে হ্যাচারি মালিকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ করেন আজিজুর রহমান। তার অভিযোগ, হ্যাচারির মালিক আলী হোসেন, মাইনুল হাসান মান্নাসহ তিন ব্যক্তি তাকে মোটরসাইকেল থেকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে চেম্বারে নিয়ে যান। সেখানে তার জামার কলার ধরে টানাটানি করা হয় এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। এ সময় কুটুরীকোনা গ্রামের আইনুদ্দিন গাজী ও পরশখিলা গ্রামের সালাম মিয়া বাধা দিতে গেলেও অভিযুক্তরা তাদের কথায় কর্ণপাত করেননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
আজিজুর রহমানের দাবি, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ১৫ দিন বয়সী বাচ্চা দেওয়ার কথা বলে কম বয়সী বাচ্চা সরবরাহের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলার ক্রেতাদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করা হচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে লাঞ্ছিত করা হয় বলেও অভিযোগ তার।
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, কুটুরীকোনা গ্রামে হাঁসের হ্যাচারি মালিকদের একটি সমিতি রয়েছে। গত ১৭ অক্টোবর ওই সমিতির সম্পাদক নির্বাচিত হন আলী হোসেন এবং সভাপতি হন মান্না। তাদের দাবি, দায়িত্ব পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। এর আগে গত সপ্তাহেও উত্তরবঙ্গের দুই ব্যবসায়ীর সঙ্গে একই ধরনের প্রতারণা ও দুর্ব্যবহারের ঘটনা ঘটে বলে তারা জানান। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হয় বলে দাবি তাদের।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সালাম মিয়া বলেন, আজিজুর রহমান আমার আত্মীয়। তিনি সিলেট থেকে বাচ্চা কিনতে এসেছিলেন। বয়স নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় তিনি বাচ্চা নিতে রাজি হননি। বাচ্চা না নেওয়ায় আলী হোসেনসহ কয়েকজন তাকে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে চেম্বারে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও অপমান করেন। বাইরের জেলার লোকজনের সঙ্গে এর আগেও তারা এমন প্রতারণা করেছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিসমিল্লাহ্ হাঁসের খামার অ্যান্ড হ্যাচারির মালিক আলী হোসেন। তিনি বলেন, আমরা কারও সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করিনি। বরং স্থানীয় কিছু দালালের প্ররোচনায় আজিজুর রহমানের কাছে বাচ্চা বিক্রি করতে পারিনি। এতে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে।
এ বিষয়ে মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম. এ. কাদের বলেন, বিসমিল্লাহ্ হাঁসের খামার অ্যান্ড হ্যাচারির বিরুদ্ধে বয়স নিয়ে প্রতারণা ও লাঞ্ছিত করার একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভুক্তভোগী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট হ্যাচারির নিবন্ধন বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

