লিবিয়া হয়ে সাগরপথে ইউরোপে যাওয়ার ঝুঁকি এড়াতে হবে: ইতালির রাষ্ট্রদূত

লিবিয়া হয়ে সাগরপথে ইউরোপে যাওয়ার ঝুঁকি এড়াতে হবে: ইতালির রাষ্ট্রদূত

অনিয়মিত অভিবাসন, মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়েছে ইতালি। মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে লিবিয়া হয়ে সাগরপথে ইউরোপে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা না করে বৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে চায় দেশটি। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার মাদারীপুরের মোস্তফাপুরে মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের সাংবাদিকদের জন্য আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অনলাইনে যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত ‘প্রত্যাশা-২’ প্রকল্পের আওতায় নিরাপদ অভিবাসন, মানব পাচার, অভিবাসী চোরাচালান ও টেকসই পুনরেকত্রীকরণ বিষয়ে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে দুই জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত মোট ৬১ জন সাংবাদিক অংশ নেন।

কর্মশালায় ইতালির রাষ্ট্রদূত বলেন, বিদেশে যাওয়াই জীবনে সফল হওয়ার একমাত্র পথ নয়। দেশে থেকেও সম্মানজনক জীবন গড়ার সুযোগ রয়েছে—এই বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। অভিবাসনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দালালের ওপর অন্ধের মতো নির্ভর না করে সরকারি সংস্থা ও নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, অনিয়মিত পথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে অনেক মানুষ নিজেদের জীবন বিপন্ন করছেন। বিশেষ করে লিবিয়া হয়ে সাগরপথের যাত্রায় প্রাণহানি ও অমানবিক নির্যাতনের চরম ঝুঁকি রয়েছে। এসব বিপদ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের সুযোগ সম্পর্কে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

অভিবাসন বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আন্তোনিও আলেসান্দ্রো বলেন, সাংবাদিকদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন মানুষের সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা রাখতে পারে। মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পাচারকারী চক্রের অবৈধ কার্যক্রম ও সিন্ডিকেট নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করার আহ্বান জানান তিনি।

তার মতে, তথ্যভিত্তিক ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমেই মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের প্রকৃত ঝুঁকি তুলে ধরা এবং অপরাধী চক্রের কার্যক্রম সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক করা সম্ভব।

কর্মশালায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাংলাদেশ কার্যালয়ের ফার্স্ট সেক্রেটারি লরা কার্তানিয়া ইয়াখ, সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার নূরুল কাদের, ঢাকায় অবস্থিত ইতালি দূতাবাসের মাইগ্রেশন অ্যাটাশে জুসেপ্পে দি জোভান্নি, মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম, ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান, ‘প্রবাস কথা’র সম্পাদক মুনজুরুল করিম এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সালাউদ্দিন রাসেল।

নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা, মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ এবং বিদেশফেরত অভিবাসীদের সমাজে টেকসই পুনরেকত্রীকরণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই মূলত এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন