নেত্রকোণার দুর্গাপুরে চাঞ্চল্যকর সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির ওরফে আলিফ ফকির হত্যার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে অপূর্ব নামে এক সন্দেহভাজনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে দুর্গাপুর বাজারের পুরাতন সিনেমা হলের পাশ থেকে তাকে আটক করা হয়।
দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার আসামির নাম অপূর্ব (২২), তার বাবার নাম শমশের আলী। তিনি নেত্রকোণার দুর্গাপুরের চাঞ্চল্যকর এক পুলিশ হত্যা মামলার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়া অন্যতম আসামি।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, মূলত আলিফকে হত্যা করতে গিয়েই হামলাকারীরা ভুলবশত তার চেহারার সাথে মিল থাকা এক পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা করেছিল। অপূর্ব পুলিশের তালিকাভুক্ত আসামি এবং দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন। পুলিশের গোপন সংবাদের মাধ্যমে রাত ১২টার পর তার গতিবিধি ও অবস্থানের সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়ে ওঁত পেতে থাকা পুলিশের একটি বিশেষ টিম তাকে গ্রেপ্তার করে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাংবাদিক আলিফ হত্যাকাণ্ডের পেছনে ৫ থেকে ৬ জনের একটি চক্র সরাসরি জড়িত ছিল। এছাড়া এর পেছনে অর্থদাতাসহ একটি বড় চক্র যুক্ত রয়েছে। আটক অপূর্বকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এই হত্যা সংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গত বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৮টার দিকে দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি উৎরাইল এলাকার তেলুনজিয়া গ্রামে শ্বশুরবাড়ির কাছের একটি দোকানের সামনে দুর্বৃত্তরা সাংবাদিক আলিফকে গুলি করে হত্যা করে। তিনি সাবেক সেনাসদস্য ও ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ ফেসবুক পেজের কর্ণধার। হত্যাকাণ্ডের পর আলিফের শরীরে ৬টি গুলির ক্ষত পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ৭-৮ জনকে আসামি করে দুর্গাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), সিআইডি ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সমন্বিত টিম এ হত্যার সাথে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

