পাহাড়ি ঢলে ভেসে গেল ব্রিজ, সাঁতরে প্রাণে বাঁচলেন চারজন

পাহাড়ি ঢলে ভেসে গেল ব্রিজ, সাঁতরে প্রাণে বাঁচলেন চারজন

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় প্রায় ১২০ ফুট দীর্ঘ একটি স্টিল ব্রিজ ভেসে গেছে। এ সময় ব্রিজটির ওপর দিয়ে পারাপারের সময় দুই শিশুসহ চারজন পানিতে পড়ে গেলেও সাঁতরে তীরে উঠে প্রাণে রক্ষা পান।

বিজ্ঞাপন

সোমবার দুপুরে উপজেলার দক্ষিণ সন্নাসীভিটা নয়াপাড়া এলাকায় চেল্লাখালী নদীর ওপর নির্মিত ব্রিজটিতে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভারতের মেঘালয় রাজ্যে টানা ভারি বর্ষণের কারণে সোমবার সকাল থেকেই চেল্লাখালী নদীতে উজান থেকে পাহাড়ি ঢল নামে। ঢলের পানিতে নদীর স্রোত অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় এবং পানি বিপদসীমার ৩২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে। এতে বিভিন্ন স্থানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ উপচে পড়ে এবং কোথাও কোথাও বাঁধ ভেঙে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়।

দুপুরের দিকে দক্ষিণ সন্নাসীভিটা নয়াপাড়ার স্টিল ব্রিজের নিচ দিয়ে প্রবল বেগে ঢলের পানি প্রবাহিত হতে থাকে। একপর্যায়ে স্রোতের তীব্র চাপে ব্রিজটির মাঝখান বিকট শব্দে বেঁকে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে নদীর পানিতে তলিয়ে যায়। এ সময় ব্রিজটির ওপর দিয়ে পারাপাররত দুই শিশুসহ চারজন পানিতে পড়ে যান। তবে স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা স্রোতের সঙ্গে কিছুদূর ভেসে গিয়ে সাঁতরে নিরাপদে তীরে উঠতে সক্ষম হন। এতে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সবাই অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার হন।

স্থানীয়রা জানান, এটি এই স্থানে নির্মিত দ্বিতীয় স্টিল ব্রিজ। এর আগে একই স্থানে নির্মিত আরেকটি স্টিল ব্রিজও পাহাড়ি ঢলের তোড়ে ভেসে গিয়েছিল। পরে ২০২০ সালের দিকে নতুন করে বর্তমান ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু কয়েক বছরের ব্যবধানে সেটিও একই পরিণতির শিকার হলো।

ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় দক্ষিণ সন্নাসীভিটা, নয়াপাড়াসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। জরুরি প্রয়োজনেও স্থানীয়দের বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

এ বিষয়ে নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল মালেক বলেন, খবর পেয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের প্রতিনিধিদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। পানি কমে গেলে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে ব্রিজটি পুনর্নির্মাণ বা সংস্কারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি জানান, এ পর্যন্ত অন্য কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...