আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

শ্রীবরদীতে নেই ডাম্পিং স্টেশন দুর্ভোগে পৌরবাসী

রিয়াদ আহম্মেদ, শ্রীবরদী (শেরপুর)

শ্রীবরদীতে নেই ডাম্পিং স্টেশন দুর্ভোগে পৌরবাসী

শ্রীবরদীতে নেই ডাম্পিং স্টেশন, পুকুরে ফেলা হচ্ছে বর্জ্য। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন পৌরবাসী। জানা গেছে, শেরপুরের শ্রীবরদী পৌরসভা গঠনের পর কেটে গেছে বহু বছর। সময়ের পালাবদল হলেও তেমন কোনো আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়। উপজেলা শহরে নেই নির্দিষ্ট ও পরিকল্পিত কোনো ডাম্পিং স্টেশন।

ফলে প্রতিদিনের বাসাবাড়ি ও বাজারের বর্জ্য যত্রতত্রভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা হচ্ছে বিভিন্ন সড়ক ও খোলা জায়গায়। এতে শহরের সৌন্দর্য নষ্টের পাশাপাশি দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। পৌরসভা বলছে, ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় আপাতত ব্যক্তিমালিকানার জমি লিজ নিয়ে পুকুরে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

জানা যায়, শ্রীবরদী পৌরসভার পূর্ব ছনকান্দা এলাকার মজিবর মৃধা বাড়ির পাশে স্থানীয় রফিকুল মেম্বার ও ফজি মিয়ার প্রায় ২০ শতাংশ জমির একটি পরিত্যক্ত পুকুরকে এক বছর আগে লিজ নেয় পৌরসভা। এর পর থেকে অস্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন হিসেবে সেটি ব্যবহার করা শুরু করে পৌরসভা। কিছুদিন সেখানে বর্জ্য ফেলা হলেও বর্তমানে ঠিকঠাকমতো ফেলা হচ্ছে না। প্রতিদিনের বাসাবাড়ি ও বাজারের বর্জ্য যত্রতত্রভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা হচ্ছে বিভিন্ন সড়ক ও খোলা জায়গায়। এতে শহরের সৌন্দর্য নষ্টের পাশাপাশি দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। আর ভোগান্তিতে পড়েছে জনসাধারণ।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, লিজ নেওয়া পুকুরটির চারপাশজুড়ে ঘনবসতিপূর্ণ বাড়িঘর। ফলে এলাকার মানুষ প্রতিদিনই দূষিত পরিবেশের সঙ্গে লড়াই করে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বারবার আপত্তি জানানো হলেও এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পৌরসভা।

পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, লিজ নেওয়া জমি ছাড়াও শ্রীবরদী পৌরসভার বিভিন্ন অলি-গলিতে যত্রতত্রভাবে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। কখনো উত্তর বাজার, কখনো পশ্চিম বাজার এলাকা, এমনকি চৌরাস্তা মোড়েও ময়লার স্তূপ দেখা যায়। দু-তিন দিন পরপর সরানো হয় সেই ময়লা।

পশ্চিম বাজার এলাকার রুবেল মিয়া বলেন, ‘বাজারের প্রায় সব জায়গাতে ময়লার স্তূপ করে রাখা আছে। আর ছনকান্দাতে তো যাওয়াই যায় না। কারণ, অসহনীয় গন্ধ। পুকুরভর্তি বর্জ্যের গন্ধ, মাছির উপদ্রব, রোগবালাই ও পরিবেশ দূষণে এ এলাকা ছাড়াও আশপাশের পুরো এলাকার মানুষ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।’

ওই এলাকার বাসিন্দা চান্দু মিয়া বলেন, ‘ময়লার দুর্গন্ধে আমগর (আমাদের) বাড়িত থাহাডাই কঠিন হয়ে গেছে। গরমের মধ্যে এলাকায় থাকা যায় না।’

পূর্ব ছনকান্দা এলাকার অনিক মৃধা বলেন, ‘আমরা জানি সবসময় ময়লা-আবর্জনা ফেলতে হয় লোকালয় ছাড়া নির্জন জায়গায়। কিন্তু শ্রীবরদীতে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে রাস্তার পাশে উন্মুক্ত স্থানে বসতবাড়ির পাশে। এতে পরিবেশ ও মানুষের অনেক ক্ষতি হচ্ছে। ময়লার দুর্গন্ধে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় নাক ধরে যেতে হয়। আমরা সুস্থভাবে বাঁচতে চাই।’

একই এলাকার বেদানা বেগম বলেন, ‘ময়লার স্তূপে সবসময় কুকুর আসে। এতে আমাদের বাড়ির ছোট বাচ্চারা কুকুরের ভয়ে বাইরে বের হয়ে খেলতে পারে না।’

প্রকৃতি ও পরিবেশবাদী সংগঠন সবুজ আন্দোলনের শেরপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক মো. মেরাজ উদ্দিন বলেন, ‘শ্রীবরদী পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অব্যবস্থাপনা দিন দিন প্রকট হয়ে উঠছে। বিভিন্ন সময়ে উন্মুক্ত স্থানে জমে উঠছে আবর্জনার স্তূপ, যা পথচারী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি পরিবেশবান্ধব স্যানেটারি ল্যান্ডফিল করবে পৌর কর্তৃপক্ষ, এটাই আমাদের দাবি।’

এ বিষয়ে শ্রীবরদী পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনীষা আহমেদ বলেন, পৌরসভার নিজস্ব জমি না থাকায় ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গা ভাড়া নিয়ে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে ‘৩২ পৌরসভা প্রকল্প’-এর আওতায় একটি আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। আশা করছি, সেটি যদি আমরা করতে পারি, তাহলে ময়লা নিয়ে যে সমস্যা সেটি কেটে যাবে।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন